প্রধানমন্ত্রী দিলেন নতুন লক্ষ্য! ইসরোর অরবিটে উপগ্রহের সংখ্যা ৩ গুণ করার পরিকল্পনা, গগনযানের প্রথম ট্রায়াল কবে?

মহাকাশ গবেষণায় ভারত যে এক নতুন দিগন্তের দিকে ছুটছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন (V Narayanan)। বৃহস্পতিবার বিড়লা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির ৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কর্তৃক অনুমোদিত বেশ কয়েকটি মেগা মিশনের সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরেন।ইসরো প্রধান নিশ্চিত করেছেন যে সরকার চন্দ্রযান-৪ নমুনা ফেরৎ মিশন (Chandrayaan 4 sample return mission) এবং শুক্র অরবিটার মিশন (Venus Orbiter Mission)-এর জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছে। এর পাশাপাশি ভারত নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন তৈরির কাজেও হাত দিয়েছে, যার প্রথম মডিউল প্রকল্পের অনুমোদন মিলেছে।ইসরোর ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: ২০৩৫ সালের রোডম্যাপভি নারায়ণন ইসরোর আগামী তিন বছরের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বড় ঘোষণা করেন। তিনি বলেন:উপগ্রহ সংখ্যা বৃদ্ধি: “বর্তমানে আমাদের অরবিটে ৫৬টি উপগ্রহ রয়েছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে এই সংখ্যাটি কমপক্ষে তিন গুণ বাড়াতে হবে।”গগনযান মিশন: গগনযান (Gaganyaan)-এর জন্য সমস্ত প্রস্তুতি প্রায় শেষ। মানুষ নিয়ে যাওয়ার আগে তিনটি মনুষ্যবিহীন ট্রায়াল মিশন করা হবে। এর মধ্যে প্রথমটি এই বছরের শেষের দিকে করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।ভারতীয় মহাকাশ স্টেশন (Bharatiya Antariksh Station): ২০২৮ সালের মধ্যে এই স্টেশনের প্রথম মডিউল স্থাপন করার এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ কক্ষপথ কমপ্লেক্সটি মহাকাশে একত্রিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।1গুরুত্বপূর্ণ মিশনগুলির আপডেট:মিশনের নামলক্ষ্যমাত্রা ও বিশেষত্বচন্দ্রযান-৪ভারতের প্রথম নমুনা ফেরৎ মিশন (Sample Return Mission)। ২০২৮ সালে এটি উৎক্ষেপণের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।শুক্রযান (VOM)শুক্র গ্রহের কক্ষপথে অরবিটার পাঠানো হবে। বায়ুমণ্ডলীয় প্রোব অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনাধীন।মঙ্গল ল্যান্ডার মিশন (MLM)এই মিশনের বিস্তারিত কাজ চলছে। স্পেস কমিশন ইতিমধ্যেই এর অনুমোদন দিয়েছে, তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।সেমিক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন (SE2000)LVM3 রকেটের কোর স্টেজ প্রতিস্থাপন করার জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ইঞ্জিনটির ‘পাওয়ার হেড টেস্ট’ চলছে। খুব শীঘ্রই সম্পূর্ণ ইন্টিগ্রেটেড ইঞ্জিনের পরীক্ষা শুরু হবে।তৃতীয় লঞ্চ প্যাডশ্রীহরিকোটায় ₹৩,৯৮৫ কোটি টাকা বাজেটে ভারতের সবথেকে শক্তিশালী রকেট উৎক্ষেপণের জন্য তৃতীয় লঞ্চ প্যাড তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ হতে চার বছর সময় লাগবে।ইসরো প্রধান দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “ভারতের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাকাশ সংক্রান্ত যা যা প্রয়োজন, তা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভারতের পক্ষ থেকে অনেকগুলো মিশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আমরা সবাই সেদিকেই কাজ করছি।”দ্রুততার সঙ্গে আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট স্থাপন করতে ইসরো বর্তমানে বেসরকারি শিল্প এবং নিউ স্পেস স্টার্টআপগুলির সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।