‘টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করব না!’ টোটো-টাক্স নিয়ে চরম চাপানউতোর, বিরোধী দলনেতার হুঁশিয়ারি vs মন্ত্রীর কড়া নির্দেশ

রাজ্যের টোটো চালকদের মধ্যে এখন উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা সমানতালে বাড়ছে। রাজ্য সরকার আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে টোটোর রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করেছে, যার জন্য চালকদের দিতে হবে এককালীন রেজিস্ট্রেশন ফি এবং মাসিক ১০০ টাকা। পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন না করালে বাতিল হবে টোটো।
অন্যদিকে, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে চালকদের রেজিস্ট্রেশন না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, কেন টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে? বিধানসভা নির্বাচনের আগে সরকার এই পদক্ষেপ করছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন। শাসক ও বিরোধীর এই চর্চা-তরজার মাঝেই টোটো চালক এবং যাত্রীদের মধ্যে ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বাঁকুড়া, বর্ধমানসহ শহর ও মফঃস্বলের সর্বত্র বিগত কয়েক বছরে টোটোর সংখ্যা বহু গুণ বেড়ে গিয়েছে। শুধু বাঁকুড়ার মতো মফস্বল জেলা সদরেই টোটোর সংখ্যা প্রায় ৫ হাজারে পৌঁছেছে। বর্ধমান শহরে দৈনিক প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি টোটো চলাচল করে বলে জানা যায়, যেখানে কয়েক বছর আগে সরকারিভাবে সংখ্যাটি ছিল মাত্র চার হাজার তিনশো। এই বিপুল সংখ্যাবৃদ্ধির সঙ্গে যাত্রী সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়েনি।
এরই মধ্যে রেজিস্ট্রেশন বাবদ বছরে অতিরিক্ত ১২০০ টাকা খরচ চাপানোয় টোটো চালকরা চরম সমস্যায় পড়েছেন। বর্ধমানের সিংহভাগ টোটো চালকের বক্তব্য, যাত্রীরাই তাদের ভরসা, কিন্তু অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হলে ভাড়া বাড়ানো ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
দীর্ঘদিনের টোটো চালক সবিতা পরামানিক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “একই ভাড়ায় আর পোষাবে না। যখন এই পেশায় নেমেছিলাম তখন এত টোটো ছিল না। এখন টোটোর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনই অতিরিক্ত খরচ বাড়া মানে আমাদের জন্য এটা অনেক বড় চাপ। এমনিতেই এখন টোটো চালিয়ে সংসার চালানো কঠিন।” অন্যান্য চালকরাও একই সুরে কথা বলছেন।
এই সিদ্ধান্তে যাত্রীদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, টোটো চালকদের ওপর চাপ বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভাড়ার ওপর। বর্তমানে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা। এক যাত্রী বলেন, “ভাড়া এমনিতেই বেশি। এখন যদি আরও বাড়ে তাহলে আমাদের চাপ আরও বাড়বে।”
কলকাতা সংলগ্ন শহরাঞ্চলে বা অফিস পাড়া সেক্টর ফাইভের মতো জায়গায় টোটোর ভাড়া এমনিতেই ঊর্ধ্বমুখী। সেখানে অল্প দূরত্বের জন্য টোটোর ভাড়া ৫০ টাকা, যেখানে বাসে খরচ মাত্র ১০ টাকা। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে রেজিস্ট্রেশন ফি-এর চাপ টোটোর ভাড়াকে আরও বাড়াতে পারে বলেই মনে করছেন নিত্যযাত্রীরা।
এর আগে বর্ধমান জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রেজিস্ট্রেশন এবং টোটোর রঙ (নীল/সবুজ) দিয়ে রোটেশন পদ্ধতি চালু হলেও, তা বেশিদিন টেকেনি। চালকরা বলছেন, বর্তমানে কোনো নিয়ন্ত্রণই নেই। এই চরম চাপানউতোরের মধ্যে ৩০ নভেম্বরের পর জল কোনদিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর রাখছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ টোটো চালক ও যাত্রী।