ঋণের অঙ্ক ৮ লক্ষ কোটি ছুঁতে পারে! কেন্দ্রের বিরুদ্ধে পাল্টা তোপ দেগে ফের মোটা অঙ্কের ঋণ নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ

ফের একবার বাজার থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ঋণ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। চলতি অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই রাজ্য সরকার প্রায় ২৯,০০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। এই বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়ার তোড়জোড়কে কেন্দ্র করে রীতিমতো আশঙ্কার কালো মেঘ দেখছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকেছে এবং উল্টে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে।

এক বছরে ঋণের পরিমাণ ১ লক্ষ কোটি টাকা!

তৃতীয় দফায় এই ২৯,০০০ কোটি টাকা ঋণ নিলে, রাজ্য সরকার চলতি অর্থবর্ষে বাজার থেকে মোট ৭৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেবে। তবে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনুমান, এই প্রবণতা বজায় থাকলে চলতি অর্থবর্ষের শেষে রাজ্য সরকারের বাজার থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের রাজ্য বাজেটে বাজার থেকে ধার্য করা ঋণের পরিমাণ ছিল ৮২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। কিন্তু রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়েছে, কিছু নতুন জনমুখী প্রকল্প চালু হওয়ার কারণেই ধার্য করা ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ঋণ নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

রাজ্য সরকারের এই ঋণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। অর্থ দফতর সূত্রের খবর অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির তহবিল নির্দিষ্ট সময়ে রাজ্যে এসে পৌঁছাচ্ছে না। ফলে রাজ্য সরকারকে নিজস্ব অর্থেই অনেক প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এর ফলস্বরূপ রাজস্ব থেকে রাজ্যের আয় বাড়লেও, ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। আর এই কারণেই বারবার ঋণ নিতে হচ্ছে বলে দাবি রাজ্যের।

তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। তাদের প্রশ্ন—অন্যান্য সরকারও প্রয়োজনে ঋণ নেয়, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ঋণের অর্থ কীভাবে খরচ করা হচ্ছে? বিজেপির অভিযোগ, শুধুমাত্র নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে এই বিপুল ঋণের অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য ঠিক নয়।

রাজ্যের মোট দেনার হিসেব-নিকেশ

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ পর্যন্ত রাজ্যের মোট দেনার পরিমাণ ছিল ৬.৩৩ লক্ষ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে ৭ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিজেপি পরিষদীয় দলের আশঙ্কা, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই অঙ্ক প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছোতে পারে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের বিপুল ঋণ এবং তার ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে।