‘কেন্দ্র টাকা দেয়নি, তাই ধার’, রাজ্যের বিপুল ঋণ নিয়ে তরজা! বিজেপি বলছে, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঋণী করছে সরকার’

দিনের পর দিন বিপুল হারে বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ঋণের বোঝা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রাজ্য সরকার আরও ২৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এর ফলে তৃতীয় ত্রৈমাসিক শেষে মোট বাজার ঋণ দাঁড়াবে প্রায় ৭৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থ দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই হারে ঋণ চললে অর্থবর্ষের শেষে মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা ছুঁয়ে ফেলবে, যা রাজ্যের বকেয়া ঋণকে আরও অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজার ঋণের জন্য মোট ৮২ হাজার কোটি টাকার বাজেট নির্ধারণ করেছিল। তবে রিপোর্ট বলছে, বিভিন্ন নতুন জনমুখী প্রতিশ্রুতি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিল বরাদ্দের ঘাটতির কারণেই ঋণের ব্যবধান দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ঋণ বৃদ্ধির মূল কারণ কী? বিশেষজ্ঞরা রাজ্য সরকারের ঋণ বৃদ্ধির পিছনে একাধিক কারণ উল্লেখ করছেন: ১. কেন্দ্রের বকেয়া: প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পে কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ রেখেছে। এর ফলে রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা খরচ করে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের চাহিদা মেটাচ্ছে। ২. ১০০ দিনের কাজের অর্থ: দুই বছরের বেশি সময় ধরে কেন্দ্র ১০০ দিনের কাজ (MGNREGA) প্রকল্পের প্রায় ৬৯০০ কোটি টাকা আটকে রেখেছে। সেই বকেয়াও রাজ্যের তহবিল থেকে মেটাতে হচ্ছে। ৩. নতুন প্রকল্প: বাজেট তৈরির পরে ঘোষিত ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পের জন্যেও অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। রাজ্যে ৮০ হাজারের বেশি বুথে এই প্রকল্পে প্রতি বুথে ১০ লক্ষ টাকা করে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করছে সরকার। এছাড়াও ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পে খরচ হচ্ছে প্রায় ৩৭০০ কোটি টাকা।

বিজেপি বিধায়ক অশোক লাহিড়ী ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি নিয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ঋণের বোঝা বাড়লে রাজ্যের ঋণ পরিশোধের চাপও বাড়বে। সরকার রাজস্ব বাড়াতে প্রস্তুত নয় বলেই ঋণের উপর নির্ভর করছে। যদিও রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সরকারের পদক্ষেপকে সমর্থন করে বলেছেন, “কেন্দ্রীয় তহবিল আটকে রেখেছে। সবাই জানে যে আমরা কেন ঋণ নিচ্ছি। কেন্দ্র সরকার আমাদের বৈধ পাওনা মেটাচ্ছে না।” সরকারের মতে, কেন্দ্রের বঞ্চনার কারণেই রাজ্যের এই অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।