আফগানিস্তান পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসবাদ ছাড়া কিছুই দেয়নি’! অভ্যন্তরীণ চাপ সামলাতে এবার ভারতের দিকে আঙুল তুলল ইসলামাবাদ?

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দেওয়া মন্তব্যে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেছেন, তালিবানের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই পাকিস্তান সম্ভাব্য দুই ফ্রন্টের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রকারান্তরে ভারত এবং আফগানিস্তান উভয় সীমান্তেই উত্তেজনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ভারতীয় সীমান্তে উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে আসিফ বলেন, “পাকিস্তান দুই ফ্রন্টে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।” তিনি ‘সীমান্তে নোংরা খেলা’র “জোরালো সম্ভাবনা” সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, “এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। এর জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।”

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সমন্বিত প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাওয়া হলে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “হ্যাঁ, কৌশল তৈরি করা হয়েছে। আমি প্রকাশ্যে এগুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারব না, তবে আমরা যে কোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।”
আফগানিস্তান প্রসঙ্গে খাজা আসিফ বলেন, “ওই দেশ পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদ ছাড়া আর কিছুই দেয়নি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার পাকিস্তানে অবৈধভাবে বসবাসকারী আফগানদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং অধিকাংশ আফগানদের দ্রুত দেশে ফিরে যাওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হয় আমাদের বন্ধু এবং শত্রুর মধ্যে পার্থক্য করতে শেখা উচিত।”

ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের সুসম্পর্কের প্রেক্ষিতে এর আগে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, “কাল, আজ ও আগামিকাল— আফগানরা সবসময় ভারতের পক্ষেই রয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের আগের সরকারগুলো আমেরিকার চাপে আফগান শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছিল, যা আদতে পাকিস্তানের ক্ষতি করেছে।

বর্তমানে পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) নিয়ে বিদ্রোহের সুর চড়েছে এবং আফগান সীমান্তে বারবার আক্রমণের শিকার হচ্ছে পাক সেনা। এমন অভ্যন্তরীণ সমস্যায় কোণঠাসা হয়ে পাকিস্তান ভারতের উপর দোষ চাপাচ্ছে। তাদের মতে, ভারতই ঘুর পথে নানা আফগানি সন্ত্রাসবাদীদের সাহায্য করছে। যদিও ভারত এবং আফগানিস্তান— উভয় দেশই এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে।