‘জোটের চাপ মানব না!’ জেডিইউ-র একক সিদ্ধান্তে এনডিএ-তে বিদ্রোহের সুর, মন্ত্রী সুমিত-জামা-জয়ন্তকে টিকিট, কীসের ইঙ্গিত?

বিহার বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এনডিএ জোটের শরিকদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে জটিলতা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এককভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিল মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের জনতা দল (ইউনাইটেড)—জেডিইউ। বৃহস্পতিবার দলটি চূড়ান্ত ৪৪ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে, যার ফলে জোটের অন্দরে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল।

এর আগের দিন, বুধবার, জেডিইউ প্রথম দফায় ৫৭ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছিল। সব মিলিয়ে জেডিইউ মোট ১০১ জন প্রার্থীর নাম প্রকাশ করে। এই তালিকায় এমন চারটি আসন রয়েছে, যা নিয়ে লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস) নেতা চিরাগ পাসওয়ান জোর দাবি জানাচ্ছিলেন। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল যে চিরাগ ওই আসনগুলো কোনোভাবেই ছাড়তে রাজি নন। কিন্তু জেডিইউ প্রার্থী ঘোষণা করে স্পষ্ট বার্তা দিল যে তারা আসন বণ্টনের চাপে নতি স্বীকার করবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেডিইউ-র এই পদক্ষেপকে এক ‘দৃঢ় সংকেত’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নীতীশ কুমারের দল স্পষ্ট করে দিল যে তারা আর জোটের অভ্যন্তরীণ চাপের তোয়াক্কা করছে না।

তালিকায় একাধিক মন্ত্রী
চূড়ান্ত ৪৪ জন প্রার্থীর তালিকায় বেশ কয়েকজন বর্তমান মন্ত্রীও রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

সুমিত সিং: ২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হওয়া সুমিত সিং-কে এবার জেডিইউ চকাই আসন থেকে টিকিট দিয়েছে।

জামা খান: বিহার সরকারের মন্ত্রী, চেইনপুর থেকে প্রার্থী হয়েছেন।

জয়ন্ত রাজ: মন্ত্রী এবং তিনি আমরপুর আসন থেকেই লড়ছেন।

লেসি সিং: সরকারের আরেকজন মন্ত্রী।

এনডিএ-তে বিজেপির শরিক চিরাগ পাসওয়ানের দল এখনও তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেনি। অন্যদিকে, জেডিইউ এককভাবে এগিয়ে যাওয়ায় এনডিএ-র ঐক‌্য নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। চিরাগ পাসওয়ান ইতিমধ্যেই একাধিকবার নীতীশ কুমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে প্রয়োজনে তাঁর দল এককভাবে নির্বাচন লড়তে পারে। জেডিইউ-র এই পদক্ষেপে বিজেপি প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া না দিলেও, জোটে চাপ যে বাড়ল, তা স্পষ্ট।