‘ক্লাবগুলো ব্যবসা করছে, পুরসভা টাকা পাচ্ছে না কেন?’ আর্থিক সঙ্কটে ভুগছে KMC, মেয়রের সামনেই ‘বিস্ফোরক’ তৃণমূল কাউন্সিলর!

কলকাতা পুরসভার চলমান আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে এবার পুর-অধিবেশনেই পুজো কমিটিগুলিকে দেওয়া আর্থিক সুবিধা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন তৃণমূলের এক কাউন্সিলর। বুধবার কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশনে ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে অভিযোগ করেন, শহরজুড়ে গুচ্ছগুচ্ছ হোর্ডিং, বিজ্ঞাপনের পোস্টার ও ব্যানার থেকে ক্লাবগুলি টাকা রোজগার করলেও কলকাতা পুরসভা (KMC) কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না।

মেয়র ফিরহাদ হাকিমের উপস্থিতিতেই বিশ্বরূপ দে প্রশ্ন তোলেন, “এই ধরনের হোর্ডিং বোর্ড ব্যবসা থেকে কলকাতা পুরসভা কেন কোনো অর্থ উপার্জন করতে পারছে না? কলকাতা পুরসভার বর্তমানে যে আর্থিক পরিস্থিতি, তাতে এই পুজো উদ্যোক্তা বা ক্লাবগুলি থেকে কেন পৌরসভা কোনো অর্থ আদায় করছে না?” পুরসভার অর্থভাণ্ডার ক্ষতিগ্রস্ত করে ক্লাবগুলিকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে কেন, সেই প্রশ্নই তিনি কার্যত সামনে আনেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলেরই একজন কাউন্সিলর এভাবে প্রকাশ্যে পুরসভার আর্থিক দুর্বলতা এবং পুজোগুলিকে দেওয়া সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম কিছুটা হতবাক হয়ে যান।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে চলতে বাধ্য, বললেন মেয়র
কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে-এর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পাল্টা উত্তর দিতে ওঠেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি স্বীকার করে নেন যে, কলকাতা পুরসভা নিজের অর্থভাণ্ডার ক্ষতি করেই পুজোর যাবতীয় কাজ ও পরিষেবা দেয়। তবে এর কারণ হিসেবে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশের কথা উল্লেখ করেন।

মেয়র জানান, উৎসবকে বৃহত্তর আকারে তুলে ধরার জন্য পুজো কমিটি ও ক্লাবগুলির পাশে থাকার স্পষ্ট নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর রয়েছে। তাই এক্ষেত্রে ক্লাব বা পুজো উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া সম্ভব নয়।

অধিবেশন শেষেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন বিশ্বরূপ দে। তিনি বলেন, “আমি ভুল কিছু বলিনি। ক্লাবগুলি ব্যবসা করবে, পুজো কমিটিগুলো ব্যবসা করবে, অথচ কলকাতা পুরসভা কোনো অর্থ পাবে না—এটা হওয়া উচিত নয়।” তাঁর মতে, বর্তমানে কলকাতা পুরসভার যা পরিস্থিতি, তাতে অর্থ আদায়ের উৎসগুলিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

পুরসভার আধিকারিকদের একাংশের কথায়, অর্থের দৈন্যদশা নিয়ে যে বক্তব্য তাঁরা প্রকাশ্যে বলতে পারেন না, এদিন সেই চাপা ক্ষোভই যেন খোদ তৃণমূল কাউন্সিলরের গলা থেকে প্রকাশ্যে এল। বিশ্বরূপ দে-এর এই প্রকাশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়ায় শাসক দলের অন্দরেও জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।