রাশিয়া-আমেরিকার পরই ভারত! বিশ্বের সেরা বায়ুসেনার তালিকায় চিনের চেয়েও এগিয়ে গেল দিল্লি, কী বলছে ‘ট্রু ভ্যালু রেটিং’?

বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে গোটা পৃথিবীর নজর হঠাৎই ঘুরে গেল এশিয়ার দিকে। ওয়ার্ল্ড ডিরেক্টরি অফ মডার্ন মিলিটারি এয়ারক্র্যাফ্ট (WDMMA)-এর সদ্য প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী সামরিক শক্তির সমীকরণ বদলে গেল এশিয়ায়। চিনকে সরিয়ে দিয়ে বিশ্বের তৃতীয় শক্তিশালী বিমানবাহিনীর স্থান দখল করে নিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF)। যদিও এই তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে যথাক্রমে রয়েছে আমেরিকা ও রাশিয়া।
WDMMA-এর এই র্যাঙ্কিং শুধুমাত্র বিমানের সংখ্যা বিচার করে না। একটি বিমানবাহিনীর আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা ক্ষমতা, বাহিনীর আধুনিকীকরণ এবং লজিস্টিক সাপোর্টের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করে তারা একটি বিশেষ ‘ট্রু ভ্যালু রেটিং’ প্রদান করে।
এই রেটিং-এ ভারত তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চিনের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। তালিকায় ভারতের রেটিং হল ৬৯.৪, যেখানে চিনের রেটিং ৫৮.১। এই উচ্চ রেটিং প্রমাণ করে যে ভারতীয় বায়ুসেনা কেবল সংখ্যায় নয়, আধুনিকীকরণ ও কৌশলগত সক্ষমতার দিক থেকেও বিশ্বের প্রথম সারিতে উঠে এসেছে। ভারতের হাতে এই মুহূর্তে ১,৭১৬টি এয়ারক্র্যাফট রয়েছে, যার মধ্যে ৩১.৬ শতাংশই ফাইটার জেট।
এই র্যাঙ্কিংয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে আসা কেবল দেশের জন্য গর্বের বিষয় নয়, এর রয়েছে গভীর কৌশলগত গুরুত্ব। চিনা আগ্রাসন মোকাবিলার জন্য ভারতের যেসব গুরুত্বপূর্ণ এয়ার বেস দরকার, তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটি ঘাঁটি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে:
১. কলাইকুণ্ডা (পশ্চিম মেদিনীপুর)
২. হাসিমারা (আলিপুরদুয়ার)
এর মধ্যে হাসিমারা ঘাঁটিতে রয়েছে রাফাল স্কোয়াড্রন। পূর্ব ভারতের আকাশ সুরক্ষিত রাখা এবং শিলিগুড়ি করিডোর (চিকেন’স নেক) সুরক্ষায় এই দুই বায়ুসেনা ঘাঁটির ভূমিকা অপরিহার্য।
WDMMA-এর তালিকায় আমেরিকার ‘ট্রু ভ্যালু রেটিং’ ২৪২.৯ হলেও, এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যে ভারতের এই উত্থান আগামী দিনে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারতীয় বায়ুসেনার ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে।