হরিয়ানা জোড়া আত্মহত্যা! আইপিএস-এর স্ত্রী, বিধায়ক শ্যালক সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে FIR! জাঠ সম্প্রদায়ের চাপের মুখে প্রশাসন?

হরিয়ানা পুলিশের দুই কর্মীর রহস্যজনক আত্মহত্যার তদন্তে এল নয়া মোড়। প্রয়াত এএসআই সন্দীপকুমার লাঠেরের স্ত্রী সন্তোষের অভিযোগের ভিত্তিতে রোহতক সদর থানায় আইপিএস অফিসার ওয়াই পূর্ণ কুমারের আইএএস স্ত্রী আমনিত কৌর ওরফে আমনিত পি কুমার, তাঁর শ্যালক তথা পাঞ্জাবের ভাটিন্ডা গ্রামীণের আম আদমি পার্টির বিধায়ক অমিত রতন, পূর্ণ কুমারের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী সুশীল কুমার এবং আরও একজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

একদিকে যখন বুধবারই মুখ্যমন্ত্রী নায়েব সিং সাইনি সন্দীপের দেশের বাড়ি লাধোটে গিয়ে পরিবারকে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়ে আসেন, ঠিক তার পরেই সন্দীপের পরিবার ও আশপাশের জাঠ সম্প্রদায়ের মানুষ ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মৃতদেহ পুলিশের হাতে তুলে দেন। এর আগে, পূর্ণ কুমারের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত দেহ ছাড়বেন না বলে দাবি জানিয়েছিলেন তাঁরা। অন্যদিকে, আত্মহত্যার ৮ দিন পর বুধবার চণ্ডীগড়ে শেষমেশ আইপিএস পূর্ণ কুমারের অন্ত্যেষ্টি সম্পন্ন হয়েছে।

মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই পুলিশকর্তার সার্ভিস রিভলভারের গুলিতে রহস্য-আত্মহত্যার ঘটনায় বিজেপি শাসিত হরিয়ানা পুলিশের অভ্যন্তরে দুর্নীতি, অপশাসন ও জাতভিত্তিক শোষণের চিত্র প্রকাশ্যে আসে। প্রথমে আইপিএস পূর্ণ কুমারের সুইসাইড নোট জাত বৈষম্যের ইঙ্গিত দিলেও, পরে এএসআই সন্দীপকুমার লাঠেরের সুইসাইড চিঠি ও ভিডিও সম্পূর্ণ ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

সন্দীপ লাঠের তাঁর শেষ বয়ানে সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, পূর্ণ কুমার কুখ্যাত গ্যাংস্টার রাও ইন্দ্রজিতের নাম একটি খুনের মামলা থেকে মুছে দিতে তাঁর সঙ্গে ৫০ কোটি টাকার চুক্তি করেছিলেন। সন্দীপ তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, এই দুর্নীতির প্রতিবাদ করতে গিয়েই তিনি চরম হেনস্থার শিকার হন।

দুর্নীতি, তোলাবাজি, ঘুষচক্রের অভিযোগ ঘিরে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে হরিয়ানা পুলিশ বিভাগ। প্রয়াত পূর্ণ কুমারের বিরুদ্ধে রোহতক ঘুষ কাণ্ডের তদন্তকারী অফিসার ছিলেন সন্দীপ লাঠের। এই বিরাট ঘটনায় গ্যাংস্টার রাও ইন্দ্রজিতের নাম ফের শিরোনামে এসেছে, যার বিরুদ্ধে ইউটিউবার এলভিস যাদবের বাড়িতে গুলিচালনা সহ একাধিক গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে এবং যিনি বর্তমানে আমেরিকায় আত্মগোপন করে আছেন।