‘ড্যাম ভেঙে দিন’! DVC-কে চরম হুঁশিয়ারি মমতার, পাহাড়ের সুরক্ষায় সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ লাগানোর ঘোষণা!

লাগাতার প্রবল বর্ষণ এবং তার জেরে ভয়াবহ ধস ও হড়পা বানের প্রকোপে ভয়ঙ্কর সংকটের মুখে উত্তরবঙ্গ। প্রকৃতির এই রূঢ় রূপে প্রাণ হারিয়েছেন ৩২ জন মানুষ এবং প্রায় ৭০ হাজার মানুষ হয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারের বিস্তীর্ণ এলাকা ভাসিয়ে দিয়েছে জল ও কাদা। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় এড়াতে এক ‘ঐতিহাসিক’ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কংক্রিটের বাঁধের উপর ভরসা না রেখে এবার ‘প্রকৃতি দিয়েই প্রকৃতিকে রক্ষা’ করার ডাক দিলেন তিনি।
বুধবার দার্জিলিংয়ে আয়োজিত এক প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি জানিয়ে দেন, “কংক্রিটে আর কাজ হবে না। পাহাড়ি নদীর পাড়ে এবার লাগাতে হবে ম্যানগ্রোভ আর ভেটিভার।” তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের সুন্দরবনের উপকূলীয় অঞ্চলের মতো এবার পাহাড়েও প্রাকৃতিক বাঁধ গড়ে তোলা হবে।
ম্যানগ্রোভ মূলত লবণাক্ত জলে জন্ম নিলেও শক্তিশালী শিকড় দিয়ে উপকূলকে সুরক্ষা দেয় এবং জলপ্রবাহের গতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে, ভেটিভার হলো গভীর শিকড়বিশিষ্ট একপ্রকার ঘাস, যা মাটি ক্ষয় রোধে অত্যন্ত কার্যকর। এই দুটি উদ্ভিদ একসঙ্গে মাটিকে ধরে রেখে নদী ও পাহাড়ের ঢালকে সুরক্ষিত করবে বলে মনে করছে রাজ্য প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “আপনারা যদি গঙ্গাসাগরে ৫ কোটি গাছ লাগাতে পারেন, তাহলে উত্তরবঙ্গের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতেও লাগানো যাবে না কেন?” স্থায়ী সমাধানের জন্য গাছ লাগানোকে ‘টেকসই’ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বৃষ্টি বিপর্যয়ের পাশাপাশি জল ছাড়ার অব্যবস্থাপনা নিয়েও বৈঠকে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। সরাসরি দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC)-কে নিশানা করে তিনি বলেন, “২০ বছর ধরে ড্রেজিং করেনি ডিভিসি। মাইথন, পাঞ্চেত, ফরাক্কা—সব জায়গায় একই অবস্থা। বর্ষায় জল ছাড়বে, গ্রীষ্মে জল মিলবে না, এ কেমন নীতি?” পরিস্থিতি না শুধরালে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে ড্যাম ভেঙে দিন, নদীকে তার স্বাভাবিক পথে চলতে দিন।”
এছাড়াও, ভুটান থেকে জল ছাড়ার কারণে উত্তরবঙ্গে যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, সেই প্রসঙ্গে কেন্দ্র সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। তিনি বলেন, “ভুটানের জল আমাদের ভাসিয়ে দেবে, আর ওরা ক্ষতিপূরণ দেবে না? হোয়াই উই সাফার এভরিটাইম?”
তবে ম্যানগ্রোভ সাধারণত নোনা জলে জন্মায়, পাহাড়ি ভূপ্রকৃতিতে তা আদৌ টিকবে কি না এবং কীভাবে এই প্রাকৃতিক বাঁধ নির্মাণ করা হবে, সেই উপায় নিয়ে প্রশাসনিক মহলে এখনও কোনো স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়নি। কিন্তু এই নতুন পরিকল্পনা উত্তরবঙ্গের বিপর্যয় মোকাবিলায় এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।