‘ড্রেজিং না করলে ড্যামের প্রয়োজনীয়তা কী? ভেঙে দাও ড্যাম’! উত্তরবঙ্গ বিপর্যয় নিয়ে বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

উত্তরবঙ্গে বিপর্যয়ের দায় আগেই প্রতিবেশী ভুটানের ওপর চাপিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার দার্জিলিঙের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে তিনি ড্যামের যৌক্তিকতা নিয়েই সরাসরি প্রশ্ন তুলে দিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ড্রেজিং না করলে ড্যাম ভেঙে দেওয়ার পক্ষে তিনি সওয়াল তুলবেন।
বুধবার দার্জিলিঙের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই ধরনের ড্যামের প্রয়োজনীয়তা কী? আমি মেঘনাথা সাহার রিপোর্ট দেখেছি। তাঁরই বক্তব্য ছিল, ড্যামের কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই।”
তাঁর ক্ষোভের কারণ ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ড্যাম রাখার কারণ হল, যাদের জলের সঙ্কট, তার এলাকায় গ্রীষ্মকালে জল সরবরাহ করার জন্য। গ্রীষ্মকালে আমি যদি জল চেয়ে না পাই, আর বর্ষা হলেই তোমরা তোমাদের জল ছেড়ে দেবে আমাদের বাংলায়… ড্রেজিং না করলে ড্যামের কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। ভেঙে দাও ড্যাম।”
এর আগে সোমবার নাগরাকাটায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভুটানের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভুটানের জলেই উত্তরবঙ্গে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। “আমরা চাই ওরা ক্ষতিপূরণ দিক!” তিনি বামনডাঙা থেকে ইন্দো-ভুটান নদী কমিশন গড়ার দাবিও জানান এবং তাতে বাংলাকে সদস্য করার কথা বলেন।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাহাড়ি এলাকায় আরও বেশি করে ম্যানগ্রোভ লাগানোর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “ম্যানগ্রোভ কংক্রিটের থেকেও শক্ত। উত্তরবঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় এই গাছ লাগান। আমি টাকা জলে ঢালতে রাজি নই।”
সোমবার নাগরাকাটা গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দুর্গতদের ক্ষতিপূরণ দেন, ত্রাণসামগ্রী বিলি করেন এবং মৃতদের পরিবারের এক জন করে সদস্যের হাতে চাকরির নিয়োগপত্রও তুলে দেন। এবার ড্যাম ভেঙে দেওয়ার পক্ষে সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী চরম হুঁশিয়ারি দিলেন।