হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট কাণ্ড: বর্ধমান স্টেশনে ‘ঐতিহাসিক’ ব্যর্থতা! জিএম এলেন পরিদর্শনে, কী হবে সরু সিঁড়ির?

একসঙ্গে তিনটি প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের আগমন এবং সেই ট্রেন ধরার জন্য যাত্রীদের চরম হুড়োহুড়ি—আর তারই ফলস্বরূপ সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় ঘটে গেল মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনা। গতকাল, সোমবার বর্ধমান স্টেশনের এই দুর্ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করলেন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মিলিন্দ দেওস্কর। দুর্ঘটনার পর রেল ও আরপিএফ আধিকারিকদের দফায় দফায় পরিদর্শনের পর সোমবার বিকেলে তিনি নিজে স্টেশন পরিদর্শনে আসেন।

আহত ৮, সিঁড়ি চওড়া করার উপায় নেই!

জিএম মিলিন্দ দেওস্কর জানান, দুর্ঘটনায় মোট ৮ জন আহত হয়েছেন। তার মধ্যে ৩ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাওড়া অর্থোপেডিক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। রেলের নিয়ম মেনে আহতদের প্রাপ্য অনুদান ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এই স্টেশন খুবই পুরনো এবং দিনে ১৬৭টি ট্রেনের জন্য এটি তৈরি ছিল না।

তবে, তিনি স্বীকার করে নেন যে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য আরও ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁর কথায়, “এখানে প্ল্যাটফর্ম খুব কম চওড়া। ওঠানামার সিঁড়িও আরও চওড়া করার উপায় নেই।”

রেলের আশ্বাসে কি সমস্যার সমাধান?

যদিও জিএম মেনে নিয়েছেন যে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবুও তিনি আগামীতে উন্নতির আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, ফুটব্রিজ বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে। পাশাপাশি, ৬ ও ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মের বহর আরও বাড়ানো হবে এবং ৬ মাসের মধ্যে ইয়ার্ডের সম্প্রসারণ করা হবে।

২০১৯ সাল থেকে এই স্টেশনে দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জিএম জানান, আগামী ৭-৮ দিনের মধ্যে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি করার চেষ্টা চলছে এবং ট্রেন ম্যানেজমেন্ট নিয়ে ভিন্নভাবে ভাবা হচ্ছে।

তদন্ত কমিটি গঠন, ‘গাফিলতি’র তত্ত্ব খারিজ

ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিকরা রয়েছেন। জিএম প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, ১৫ মিনিট আগেই ট্রেনের ঘোষণা হয়েছিল এবং প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তনও হয়নি, তাই এই মুহূর্তে কোনও গাফিলতির তথ্য সামনে আসেনি। তবে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও আশ্বাস দেন, স্টেশনে কেউ আহত হলে যাতে দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্স পাওয়া যায়, সেই বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করা হবে।