‘মেয়েদের রাতে বাইরে যাওয়া উচিত নয়’ মন্তব্যে তুলকালাম! মমতার ‘বিকৃতি’র দাবি উড়িয়ে ভিডিও পোস্ট করে শুভেন্দুর চরম হুঁশিয়ারি

আর জি করের পর দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়াকে গণধর্ষণের ঘটনায় যখন রাজ্যের নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসন কাঠগড়ায়, তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ‘মেয়েদের রাতে বাইরে বেরোনো নিয়ন্ত্রণ করা উচিত’—মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্য সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই বিরোধীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে। এবার মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি আক্রমণ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, এটি স্রেফ প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা।
গতকাল, রবিবার রাতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওটি সংযুক্ত করে তিনি লেখেন, মুখ্যমন্ত্রীর ‘মেয়েদের রাতে বাইরে যাওয়া উচিত নয়’ মন্তব্যটি ‘মধ্যযুগীয় মানসিকতার পরিচায়ক’।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য ‘বিকৃত’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুললেও, শুভেন্দু অধিকারী সেই দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই মন্তব্য কোনওভাবে বিকৃত করা হয়নি, বরং এটি নারী নিরাপত্তা বিষয়ে সরকারের চরম ব্যর্থতা আড়াল করার কৌশল। শুভেন্দু তাঁর পোস্টে মমতাকে প্রশ্ন করেছেন: “Mamata Banerjee why are you trying to clarify your ‘Outdated Medieval Dictat’ that ‘Girls should not be allowed to go outside at night’?”
শুভেন্দু অধিকারী এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, “পশ্চিমবঙ্গে নারী নির্যাতনের ঘটনাকে ঢাকতে এখন ভিকটিম শেমিং-ই রাজ্য সরকারের নীতি হয়ে উঠেছে।” তাঁর কথায়, রাজ্যে কার্যত আইনশৃঙ্খলা নেই, এবং মহিলাদের উপর নারকীয় অত্যাচারের জন্য উল্টে তাঁদেরকেই দায়ী করা হচ্ছে।
তিনি আর জি কর মেডিকেল কলেজ, কসবা ল কলেজ, পাঁশকুড়া হাসপাতাল এবং সাম্প্রতিক দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজের মতো একাধিক যৌন হেনস্তার ঘটনা তুলে ধরে বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলিতে একের পর এক যৌন হেনস্তার ঘটনা প্রমাণ করছে প্রশাসনের ব্যর্থতা।” তিনি কটাক্ষ করে আরও বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে একদিন হয়তো মুখ্যমন্ত্রী বলবেন, মেয়েদের দিনের বেলাতেও বাইরে বেরনো উচিত নয়, তারা পড়াশোনা বা চাকরিও করবে না।”
প্রসঙ্গত, দুর্গাপুরে গণধর্ষণের শিকার হওয়া ডাক্তারি পড়ুয়াটি আদতে ওড়িশার বাসিন্দা। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই গত শনিবার সন্ধ্যায় ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝীর সচিবালয় সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আর্জি জানায়।
এদিকে, নির্যাতিতার বাবাও জানিয়েছেন, তিনি তাঁর মেয়েকে ওড়িশায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চান, কারণ দুর্গাপুরে আর নিরাপত্তা নেই বলে তিনি মনে করছেন। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে এবং আদালত তাদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।