১৪ মাসের শিশুকে ধর্ষণ করে পুঁতে দিল দেহ, এবার শোরগোল ত্রিপুরায়

পশ্চিমবঙ্গ যখন দুর্গাপুরের গণধর্ষণকাণ্ডে উত্তাল, ঠিক তখনই উত্তর-পূর্বের রাজ্য ত্রিপুরা থেকে উঠে এল আরও এক নৃশংস অপরাধের ঘটনা। উত্তর ত্রিপুরার পানিসগড়ে এক ১৪ মাসের শিশুকন্যাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ উঠল। এমনকি, শিশুটির নিথর দেহ ধানক্ষেতে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল বলে খবর। এই হাড়হিম করা ঘটনা সামনে আসতেই গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই জঘন্যতম অপরাধটি করেছে এক দিনমজুর। অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করে স্থানীয় আদালতে তোলা হয়েছে।

পানিসগড় থানার ওসি সুমন্ত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, গত শনিবার শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। এরপর অভিযুক্ত তার প্রাণ কেড়ে নিয়ে ধানক্ষেতে পুঁতে দেয়।

কীভাবে ঘটল এই নৃশংসতা?

অভিযোগ, অভিযুক্ত ‘ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার’ নাম করে শিশুটিকে তার মায়ের কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে যায়। এরপরই সে ধর্ষণ করে শিশুটিকে হত্যা করে এবং প্রমাণ লোপাটের জন্য মাটির তলায় পুঁতে দেয়।

ওসি আরও জানান, শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার ৩ ঘণ্টা পরও অভিযুক্ত যখন ফিরছিল না, তখন বাবা-মায়ের চিন্তা শুরু হয়। দ্রুত খবরটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে ১০০-রও বেশি গ্রামবাসী মিলে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এই সময় ধানক্ষেতে পোঁতা অবস্থায় শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার হয়। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ড নিয়েও গোটা রাজ্য জুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এক বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় বিরোধীরা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলেছেন। যদিও মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ প্রশাসনের পাশেই দাঁড়িয়েছেন। এই আবহে ত্রিপুরায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতির ইঙ্গিত দিল।