‘জোড়া হেলিকপ্টার যাঁর, তাঁর মুখে মানায় না!’ কনভয় বিতর্কে মুখ্যমন্ত্রীকে চরম পাল্টা শুভেন্দুর!

উত্তরবঙ্গের নাগরাকাটায় বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের ওপর হামলার ঘটনায় রাজ্যের রাজনীতি এখন চরম উত্তপ্ত। এই ঘটনায় খগেন মুর্মুর চোখের নীচের হাড় ভেঙে যাওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুতর আকার নিয়েছে।
হামলার পর রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, দুর্গত এলাকায় বিশাল কনভয় নিয়ে ঢোকার ফলেই সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও এই প্রসঙ্গে বলেন, “৩০-৪০টা গাড়ি নিয়ে ঢোকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।”
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার আহতদের দেখতে হাসপাতালে গিয়ে তিনি মমতার অভিযোগের তীব্র জবাব দেন।
শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় বিতর্ককে কটাক্ষের সুরে আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন,
“আমরা ৮ জন বিধায়ক, ৩ জন সাংসদ, আর ৫টা গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলাম। ১২টা মিডিয়ার গাড়ি আলাদা ছিল। এখন কে বলছেন! যাঁর জন্য রাস্তা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ থাকে, দড়ি টানা থাকে, আর যিনি ২৫০-৩০০ গাড়ি নিয়ে বের হন তাঁর মুখে এসব কথা মানায় না।”
তিনি আরও বলেন, “যাঁর জোড়া হেলিকপ্টার, জোড়া চার্টার্ড ফ্লাইট, তাঁর মুখে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের তত্ত্ব মানায় না। এটা সরাসরি প্রশাসনিক ব্যর্থতা।”
শুভেন্দুর এই মন্তব্যটি মুখ্যমন্ত্রী মমতার সেই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আসে, যেখানে তিনি দুধিয়ায় দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বলেছিলেন যে তিনি মাত্র তিনটে গাড়ি নিয়ে যান এবং কড়া নির্দেশ দিয়েছেন কেউ যেন তিনটের বেশি গাড়ি না নেয়।
বিজেপি প্রথম থেকেই দাবি করছে, এটি নিছক ‘জনরোষ’ নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা, যা শাসকদলের মদতেই ঘটেছে এবং প্রশাসন যাকে জনরোষ বলে চালানোর চেষ্টা করছে।
এই ঘটনার পর একদিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। বিজেপি অভিযোগ করেছে, তৃণমূলের প্রভাবেই পুলিশ নীরব। দলীয় মহলে প্রশ্ন উঠেছে, যখন ক্যামেরাবন্দি হামলাকারীদের চিহ্নিত করা গেছে, তখনও কেন গ্রেপ্তার করা হলো না?
এই পরিস্থিতিতে, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে বিষয়টি নিয়ে হাই কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।