মৃত্যুর প্রতিবাদে কার্নিভালের দিনই কেন? এরা হুলিগান!’ আদালতে কল্যাণ বনাম বিল্বদল, উত্তপ্ত বাগ্‌বিতণ্ডার পর হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়!

রেড রোডে রাজ্য সরকারের বার্ষিক দুর্গাপূজা কার্নিভালের দিনেই শহরে মিছিল ও সমাবেশের অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সম্প্রতি শহরে বৃষ্টির জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১২ জনের মৃত্যুর প্রতিবাদে এই কর্মসূচি নিয়েছে ‘খোলা হাওয়া’ নামে একটি সংগঠন। এই মিছিলে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরীর এজলাসে এই সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি হয়। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ৫ অক্টোবর কার্নিভাল থাকলেও ১২ জনের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা, তাই এই মিছিলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য’ বনাম ‘প্রতিবাদের অধিকার’
‘খোলা হাওয়া’ সংগঠনের পক্ষ থেকে মূলত কলেজ স্কোয়ার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত মিছিলের আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু আদালতের নির্দেশে সেই রুটে অনুমতি দেওয়া হয়নি। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে:

সময়সীমা: ৫ অক্টোবর, বেলা ২টো থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মিছিল করা যাবে।

মিছিলের রুট: নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে মিছিলের রুট কলকাতা পুলিশ ঠিক করবে।

জনসংখ্যা সীমা: সংগঠনের আবেদনের ৫০০০-এর বদলে ৩০০০ সমর্থক নিয়ে মিছিল করা যাবে।

আদালতে তীব্র বাদানুবাদ: ‘হুলিগান’ কটাক্ষ
এদিন শুনানিতে রাজ্যের শাসক দলের তরফে কড়া বিরোধিতা করা হয়। রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, আবেদনকারী সংগঠনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়: তিনি সোজাসাপ্টা অভিযোগ করেন, “খোলা হাওয়া” একটি রাজনৈতিক সংগঠন। এখানে স্বপন দাশগুপ্ত, শুভেন্দু অধিকারী, শঙ্কুদেব পণ্ডা-র মতো নেতারা থাকবেন। এরা যেখানে থাকবে সেখানেই ঝামেলা হবে, নবান্ন অভিযানেও এরাই ঝামেলা পাকিয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন ৫ অক্টোবরই এই কর্মসূচি? কারণ, ওই দিন কার্নিভাল হবে। এটি সরকারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার জন্য সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিল্বদল ভট্টাচার্য: তিনি তীব্র প্রতিবাদ করে বলেন, বিদেশিরা আসবে বলে রাজ্যের ১২-১৩ জনের মৃত্যুর প্রতিবাদ করার অধিকার অস্বীকার করা যায় না। তিনি সেন্ট্রাল অ্যাভেনিউ রুটকে সঠিক বলে দাবি করে বলেন, কলকাতা পুলিশ অত্যন্ত দক্ষ, তাদের পক্ষে কার্নিভাল ও মিছিল একসঙ্গে সামলানো কঠিন হবে না।

শুনানির এক পর্যায়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিল্বদল ভট্টাচার্যের তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যেখানে ব্যক্তিগত আক্রমণও উঠে আসে।

বিচারপতির পর্যবেক্ষণ
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বলেন, তারা ৫ অক্টোবর বাদ দিয়ে অন্য যেকোনো দিন প্রতিবাদ করতে পারে, তখন বিচারপতি চৌধুরী প্রশ্ন তোলেন, “কিন্তু মৃত্যুর ঘটনাও তো কিছুদিন আগেই ঘটেছে!” এরপর রাজ্যপক্ষের যুক্তি এবং দুই আইনজীবীর উত্তপ্ত বাদানুবাদের পরে বিচারপতি রায় দেন, প্রতিবাদের অধিকার গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, ‘খোলা হাওয়া’ সংগঠনটি গত ২৭ সেপ্টেম্বর পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু ৫ অক্টোবর কার্নিভালের কারণ দেখিয়ে পুলিশ অনুমতি না দেওয়ায়, বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা সংগঠনের হয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। হাইকোর্টের এই নির্দেশ নিঃসন্দেহে রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।