“পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইল চলবে না!”-রাষ্ট্রসংঘে ভারতকে হুমকি দেওয়ায় পাকিস্তানকে তীব্র আক্রমণ

পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ‘যুদ্ধ জেতার’ দাবির তীব্র উপহাস করে রাষ্ট্রসংঘে ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিল যে তারা পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইলের কাছে মাথা নত করবে না এবং সন্ত্রাসবাদী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে।

রাষ্ট্রসংঘে ভারতের মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি পেটেল গেহলট শাহবাজ শরিফের ‘আমরা যুদ্ধে জিতেছি’ দাবিটিকে উপহাস করে বলেন, “যদি ধ্বংস হওয়া রানওয়ে এবং পুড়ে যাওয়া হ্যাঙ্গারকে প্রধানমন্ত্রী শরিফের মতো জয় বলে মনে করা হয়, তবে পাকিস্তানকে এটি উদযাপন করার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে।”

শাহবাজ শরিফের ‘অযৌক্তিক নাটক’-এর জবাবে গেহলট জোর দিয়ে বলেন যে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের নীতি ‘জিরো টলারেন্স’-এর। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে আমরা স্পষ্ট করে বলছি যে সন্ত্রাসবাদী এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হবে না। উভয়কেই দায়ী করা হবে।” তিনি আরও কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, “আমরা পরমাণু ব্ল্যাকমেইলের নামে সন্ত্রাসবাদ সহ্য করব না। ভারত কখনও এমন হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না।”

ভারতের পক্ষ থেকে গেহলট বলেন, সন্ত্রাসবাদ পাকিস্তানের বিদেশ নীতির ‘কেন্দ্র’। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি ফের প্রমাণ করে যে ইসলামাবাদ সন্ত্রাসবাদের প্রশংসা করে, পৃষ্ঠপোষকতা করে এবং তাদের সুরক্ষা দেয়। তিনি বলেন, “যত নাটকই করুন আর যত মিথ্যাই বলুন, সত্য কখনও লুকানো যায় না।”

সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF)-কে আড়াল করার চেষ্টার বিষয়টি তুলে ধরে গেহলট বলেন, ২৫ এপ্রিল নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর উপত্যকায় পর্যটকদের হত্যার জন্য দায় স্বীকার করা এই পাকিস্তান-পৃষ্ঠপোষক গোষ্ঠীকে যখন পাকিস্তান রক্ষা করার চেষ্টা করেছিল, তখন তার আসল চেহারা ফের সামনে এসেছিল।

মে মাসে দু’দেশের মধ্যে সংঘাত বন্ধ হওয়া প্রসঙ্গে গেহলট বলেন, শরিফ ‘একটি অদ্ভুত কথা’ বলেছেন। তিনি জানান, ৯ মে পর্যন্ত পাকিস্তান ভারতের ওপর আরও হামলার হুমকি দিচ্ছিল, কিন্তু ১০ মে তাদের সেনাবাহিনী সরাসরি যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করে। গেহলট উল্লেখ করেন, এর মাঝে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটি ধ্বংস করে দেয় এবং সেই ক্ষতির ছবি সকলের সামনে রয়েছে।

‘অপারেশন সিন্দূর’ (Operation Sindoor)-এর মাধ্যমে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ভারতীয় পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করে গেহলট বলেন, “সত্য হল, বরাবরের মতো এই হামলার জন্যও পাকিস্তানই দায়ী ছিল। আমরা আমাদের নাগরিকদের রক্ষা করার অধিকার ব্যবহার করেছি এবং এর মাস্টারমাইন্ড ও হামলাকারীদের শাস্তি দিয়েছি।” গেহলট শেষে জোর দেন যে ভারত ও পাকিস্তান দীর্ঘকাল ধরে সম্মত যে তাদের মধ্যেকার যেকোনো ইস্যু দ্বিপাক্ষিকভাবে সমাধান করা হবে, যেখানে কোনো তৃতীয় পক্ষের কোনো ভূমিকা নেই।