অন্য পুরুষের সঙ্গে হোটেল রুমে যৌনতায় লিপ্ত স্ত্রী! হঠাৎ এসে হাজির স্বামী, তারপর যা ঘটল…

এক ভয়াবহ পারিবারিক বিবাদ ও পরকীয়ার ঘটনায় সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এক ব্যক্তি একটি হোটেলের ঘরে নিজের স্ত্রীকে এক অপরিচিত পুরুষের সঙ্গে হাতে-নাতে ধরে ফেলেন। অসহায় স্বামীর সেই আর্তনাদ ও নাটকীয় মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমে রাকেশ নামে পরিচিত ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন। সেই সন্দেহের বশেই তিনি এক বন্ধুর মাধ্যমে হোটেলের রিসেপশন থেকে ঘরের নম্বর জেনে নেন। এরপর কয়েকজন লোক নিয়ে তিনি সেই ঘরের সামনে গিয়ে দরজা ধাক্কাতে শুরু করেন।
দরজা খোলার পরই রাকেশ তাঁর স্ত্রীকে অপর এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখতে পান। এই দৃশ্য দেখে চূড়ান্ত মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে থাকা রাকেশ চিৎকার করে ওঠেন, “লাইট জ্বালাও, লাইট জ্বালাও, সবাই দেখুক।” স্ত্রী কথা বলতে গেলে তিনি আরও উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় “পুলিশ ডাকো” বলে চিৎকার করেন। ততক্ষণে স্ত্রী’র সঙ্গে থাকা ওই ব্যক্তি জুতো পরে প্রস্তুত হচ্ছিলেন।
রাকেশ সংবাদ মাধ্যমে জানান, তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত। তিনি প্রতিবাদ করলে উল্টো স্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দায়ের করেন। এই দম্পতির তিন বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যার হেফাজত বর্তমানে মায়ের কাছে। পারিবারিক আদালতে তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদের মামলাও চলছিল।
রাকেশের অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। তিনি আরও জানান, তাঁর স্ত্রী’র প্রেমিক এক সরকারি হাসপাতালে ওষুধের দোকান চালান। তাঁর প্ররোচনায় স্ত্রী রাকেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার ষড়যন্ত্র চালিয়ে যান। রাকেশ জানান, তিনি মানসিকভাবে এতই বিপর্যস্ত যে বহুবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পরই তা ৫৩ হাজার ভিউ ছাড়িয়ে যায়। নেটিজেনদের একাংশ রাকেশের প্রতি সহানুভূতি জানালেও, অনেকে আবার এমন ব্যক্তিগত পারিবারিক ঘটনা জনসমক্ষে টেনে আনার তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, “কী হয়ে যাচ্ছে আমাদের এই দেশ?” আবার কেউ কেউ ‘ধরা পড়ার পরেও এত আত্মবিশ্বাস কী করে?’ বলে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
এই ব্যক্তিগত বিবাদের ভিডিও এখন কেবল জিন্দ নয়, বরং সারা দেশের এক বৃহত্তর সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।