‘মূর্তির নিচে ক্ষমা চান অমিত শাহ!’ বিদ্যাসাগরের জন্মজয়ন্তীতে ২০১৯-এর প্রসঙ্গ টেনে বিজেপিকে তীব্র নিশানা অভিষেকের

প্রবাদপ্রতিম মনীষী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০৫তম জন্মবার্ষিকীর দিনেই বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, ২০১৯ সালে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনার জন্য অমিত শাহের উচিত তাঁর মূর্তির নিচে নতজানু হয়ে ক্ষমা চাওয়া।
শুক্রবার বিদ্যাসাগর কলেজে এসে তাঁর মূর্তিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বিজেপিকে ‘বাংলা বিরোধী’ বলেও নিশানা করেন।
জন্মদিনে শ্রদ্ধা নয়, ১০ মিনিট দূরে থেকেও এলেন না শাহ!
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন প্রশ্ন তোলেন, “আমি শুনলাম অমিত শাহ এখান থেকে মাত্র ১০ মিনিট দূরে একটি প্যান্ডেল উদ্বোধন করতে এসেছেন। কিন্তু, ওঁর একবারও মনে হল না, বিদ্যাসাগরের জন্মজয়ন্তীতে এখানে এসে শ্রদ্ধা জানাতে! আসলে এরা বরাবরই বাংলা বিরোধী। যতদিন থাকবে বাংলার বিরোধিতা করে যাবে। এটাই এদের মানসিকতা।”
২০১৯-এর সেই হামলার প্রসঙ্গ তুলে ক্ষমা চাওয়ার দাবি
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় অমিত শাহের রোড শো-কে কেন্দ্র করে বিদ্যাসাগর কলেজে হামলা এবং বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে এনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আজ বিদ্যাসাগরের জন্মজয়ন্তীতে তাঁর মূর্তির সামনে মাথানিচু করে ক্ষমা চাওয়া উচিত ওঁর। ২০১৯ সালে অমিত শাহের নেতৃত্বে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছিল। যারা সেই কাজ করেছিল, তারা আজও বহাল তবিয়তে বিজেপিতে রয়েছে। আপনারা দলীয়ভাবে কোনও শাস্তির ব্যবস্থা করেননি।”
পুজো উদ্বোধন ঘিরেও আক্রমণ! ‘সোনার বাংলা’ নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন
কলকাতায় অমিত শাহের পুজো উদ্বোধন নিয়েও কটাক্ষ করেন তৃণমূল সেনাপতি। তিনি বলেন, “যারা একসময় বলতেন বাংলায় দুর্গাপুজো করতে দেওয়া হয় না, তারাই আজ এসে প্যান্ডেল উদ্বোধন করছে। অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ইউনেস্কো স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলার দুর্গাপুজো।”
অন্যদিকে, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে পুজোর উদ্বোধন করতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, “২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে এমন একটা সরকারকে জিতিয়ে নিয়ে আসুন, যাঁরা সোনার বাংলা গড়বে।” শাহের এই মন্তব্যের জবাবে অভিষেক পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন। তিনি বলেন, “অমিত শাহ বলছেন সোনার বাংলা বানাবেন। ওনার কাছে আমার প্রশ্ন, এই যে বিহারে রাস্তা ধসে যাচ্ছে, উনি কি সোনার বিহার বানাতে পেরেছেন? বাংলা থেকে তো এত টাকা নিয়ে যাচ্ছেন। সেই টাকা নিশ্চই গুজরাত, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশে খরচ করছেন। তো আপনারা কি সোনার গুজরাত, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ বানাতে পেরেছেন?”
বিদ্যাসাগরের জন্মবার্ষিকীতে মূর্তি ভাঙার ক্ষত এবং বাংলা-বিরোধী তকমা তুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ সৃষ্টি করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।