হাইকোর্টে বিরাট জয়, কেন্দ্রের ‘পুশব্যাক’ সিদ্ধান্ত খারিজ! সোনালি বিবিকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফেরানোর নির্দেশ

‘বাংলাদেশি’ অপবাদ দিয়ে স্বামী-পুত্র সহ সোনালি বিবিকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করার কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে সরাসরি খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে পরিযায়ী শ্রমিকদের লড়াইতে এটি এক বিশাল জয় বলেই মনে করা হচ্ছে।
শুক্রবার হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ এই যুগান্তকারী নির্দেশ দিয়েছে। রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সোনালি বিবি সহ মোট পাঁচজনকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে।
কী ঘটেছিল সোনালি বিবির সাথে?
অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার সোনালি বিবি, তাঁর স্বামী এবং সন্তানকে ‘বাংলাদেশি’ বলে দাবি করে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করে দেয়। এর পরপরই তাঁরা সেখানে গ্রেফতার হন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই পশ্চিমবঙ্গ শ্রমিক ওয়েলফেয়ার বোর্ডের পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে হেবিয়াস কর্পাস মামলা দায়ের করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টকে ‘ঢাল’ করে কেন্দ্র!
শ্রমিক সংগঠনের অভিযোগ, মামলার শুরুতে কেন্দ্র সরকার কৌশলী পদক্ষেপ নেয়। কেন্দ্র হাইকোর্টে জানায়, যেহেতু পরিযায়ী শ্রমিক সংক্রান্ত একই ধরনের মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন, তাই সোনালি বিবির এই মামলা যেন হাইকোর্ট না শোনে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই আবেদনে সাড়া দিয়ে হাইকোর্ট সেই সময় শুনানি মুলতুবি করে দেয়।
সোনালি বিবির হয়ে সওয়াল করা শ্রমিক সংগঠনের আইনজীবীরা যখন কেন্দ্রের ‘পুশব্যাক’ নীতির বিরুদ্ধে একের পর এক জোরালো যুক্তি পেশ করছিলেন, সেই সময় কেন্দ্রের প্রতিনিধি সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা মামলার বিরোধিতা করে বলেন, “যদি কোনও একজন ব্যক্তি বিচার চান, তাহলে তার পরিবার আদালতে আসুক। সরকার সবরকম সহযোগিতা করবে। এই ধরনের সংগঠন কেন আসছে? এদের নেপথ্যে রাজ্য সরকার রয়েছে।”
কিন্তু অবশেষে, শ্রমিক সংগঠন ও তাদের সওয়ালকারীদের লড়াইতে জয় এলো। কেন্দ্রের আপত্তি খারিজ করে হাইকোর্ট জানিয়ে দিল, ৪ সপ্তাহের মধ্যে সোনালি বিবি সহ বাকিদের সসম্মানে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এই রায় পরিযায়ী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং কেন্দ্রীয় পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করালো।