৬০ বছরের সার্ভিস শেষে ‘উড়ন্ত কফিন’-এর অবসর! বিদায় মিগ-২১, কতো বিমান ক্র্যাশ করল আর কতজন পাইলট শহীদ হলেন?

দীর্ঘ ৬২ বছর ধরে ভারতীয় বায়ুসেনাকে পরিষেবা দেওয়ার পর ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে মিগ-২১ যুদ্ধবিমানটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহর থেকে চিরতরে অবসর দেওয়া হলো (MiG 21 Retirement)। চণ্ডীগড় বিমানঘাঁটি থেকে এর শেষ উড্ডয়ন হয়, যেখানে বিমান বাহিনী প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এটিকে অভিবাদন জানান। এই ঐতিহাসিক বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় বিমান বাহিনীর ইতিহাসে এক যুগের অবসান হলো।
একদিকে যেমন এই বিমানটি তার উচ্চ গতি (শব্দের চেয়েও দ্রুত, ২২৩০ কিমি/ঘণ্টা) এবং যুদ্ধে চমৎকার পারফরম্যান্সের জন্য কয়েক দশক ধরে ভারতীয় বিমান বাহিনীর মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হতো, তেমনই অন্যদিকে এর দুর্ঘটনার দীর্ঘ ইতিহাস এটিকে বিতর্কের কেন্দ্রে এনেছিল।
মিগ-২১ যুদ্ধবিমান সাহসিকতা এবং সাফল্যের প্রতীক হলেও, সময়ের সাথে সাথে এটি অসংখ্য দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এই কারণেই বিমানটি ‘ফ্লাইং কফিন’ এবং ‘উইডো মেকার’-এর মতো দুর্ভাগ্যজনক ডাকনাম অর্জন করেছিল।
পরিসংখ্যান (আনুমানিক) সংখ্যা
ভারতে কেনা মোট মিগ-২১ প্রায় ৯০০টি
ক্র্যাশ হওয়া মোট বিমান ৪০০টিরও বেশি
শহীদ হওয়া পাইলট ২০০ জনেরও বেশি
Export to Sheets
এই দুর্ঘটনায় ২০০-এর বেশি পাইলট শহীদ হওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য বেসামরিক ও সামরিক কর্মীও প্রাণ হারিয়েছিলেন।
ভারতীয় বায়ুসেনার ইতিহাসে মিগ-২১
প্রথম সুপারসনিক: মিগ-২১ ছিল ভারতের প্রথম সুপারসনিক যুদ্ধবিমান। ১৯৬৩ সালে এটি প্রথম বায়ুসেনার বহরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
উৎপাদন: ১৯৬৭ সাল থেকে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) দ্বারা এটি ভারতেই একত্রিত হওয়া শুরু হয়।
১৯৬৫ ও ১৯৭১ যুদ্ধ: ১৯৬৫ সালে প্রথম যুদ্ধে ব্যবহৃত হলেও, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে মিগ-২১ যুগান্তকারী ভূমিকা রাখে। এটি বেশ কয়েকটি পাকিস্তানি বিমানঘাঁটি ধ্বংস করে।
কার্গিল ও অভিনন্দন: ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে দুর্গম পাহাড়ে শত্রু অবস্থানে সফলভাবে আক্রমণ করে এই বিমান। সবচেয়ে বিখ্যাত ঘটনাটি ঘটে যখন মিগ-২১ বাইসন উড়িয়েই গ্রুপ ক্যাপ্টেন অভিনন্দন বর্তমান একটি পাকিস্তানি এফ-১৬ বিমান ধ্বংস করেন।
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো বিশেষ সময়েও মিগ-২১ সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় ছিল এবং জঙ্গিদের আস্তানা লক্ষ্য করে ব্যবহৃত হয়েছিল। মিগ-২১ যুদ্ধবিমান ভারতীয় প্রতিরক্ষা এবং সাহসিকতার ইতিহাসে এক স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।