ইলিশের বাজারে দুঃসংবাদ! ৫০০ টন ইলিশ আসা নিয়েও আশঙ্কা, কারণ জানলে অবাক হবেন

গত সপ্তাহে বাংলাদেশের বাজারে ইলিশের প্রথম চালান আসতেই ভারতের বাজারে খুশির ঢেউ নেমেছিল। মানিকতলা ও লেক মার্কেটের মতো কলকাতার বাজারে প্রতি কেজি ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকায় ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল। তবে এই ইলিশপ্রেমীদের জন্য দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছে সাম্প্রতিক খবর। বাংলাদেশ সরকার ১২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিলেও, বাস্তব পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে এর অর্ধেকও ভারতের বাজারে আসবে না। বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের মধ্যে লোকসানের ভয় এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে বেশি দামের কারণে রপ্তানি শ্লথ হয়ে পড়েছে।
রপ্তানিকারকদের দাবি, দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রক প্রতি কেজি ইলিশের রপ্তানি মূল্য ১২.৫ মার্কিন ডলার বা ১৫২৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। অথচ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ইলিশের দাম এর চেয়ে অনেক বেশি। এক কেজি ওজনের ইলিশের পাইকারি দাম ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত। এর সঙ্গে মাছের প্যাকেজিং এবং পরিবহন খরচ যোগ করলে রপ্তানিতে লোকসান অবশ্যম্ভাবী। এ কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান অনুমতি পেলেও ইলিশ রপ্তানি করতে চাইছে না। ইতিমধ্যে বরিশালের মতো গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি কেন্দ্র থেকে ইলিশ আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
এর ফলস্বরূপ, ১২০০ টন ইলিশ রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এখন মাত্র ৫০০ টন ইলিশ ভারতে পৌঁছাবে কিনা তা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছে। কিছু ব্যবসায়ীর অভিযোগ, চোরাপথে ইলিশ ইতিমধ্যেই ভারতে চলে গেছে, যার ফলে ভারতের বাজারে ইলিশের যোগান বেড়ে গেছে। এর পাশাপাশি ভারতের বাজারে স্থানীয় ইলিশের সহজলভ্যতাও বাংলাদেশি ইলিশের চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি উভয় দেশের ব্যবসায়ী মহলকে চিন্তায় ফেলেছে।