তিহাড় থেকে ফিরতেই ‘কেষ্ট মোড়ল’-এর পুজোয় জৌলুস, অনুব্রত মণ্ডলের গ্রামে উৎসবের আমেজ তুঙ্গে

তিহাড় জেল থেকে ফেরার পর ফের স্বমহিমায় বীরভূমের ‘কেষ্ট মোড়ল’। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জৌলুস ফিরেছে তাঁর নানুরের হাটসেরান্দি গ্রামের পৈত্রিক দুর্গাপুজোয়। শতাব্দী প্রাচীন এই পুজোটি কয়েক দশক ধরে ‘অনুব্রত মণ্ডলের গ্রামের বাড়ির পুজো’ হিসেবেই পরিচিত। জেল থেকে জামিন পাওয়ার পর গত বছর পুজোয় অংশ নিলেও আর্থিক সমস্যার কারণে সেভাবে জাঁকজমক ছিল না। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। দলের কোর কমিটির আহ্বায়ক হওয়ার পর রাজনৈতিকভাবে ফের একবার নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন অনুব্রত। তাই এবার গ্রামের এই পুজোয় বাড়তি জৌলুস ও উৎসবের আমেজ।
ষষ্ঠী বা সপ্তমীতে মায়ের মুখ দেখবেন অনুব্রত
ইটিভি ভারতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনুব্রত মণ্ডল জানিয়েছেন, তাঁর গ্রামের পুজোয় মাটির প্রতিমা তৈরি হয় এবং সবরকম নিয়ম মেনেই এই পুজো হয়ে আসছে। তিনি বলেন, “আমি আমার গ্রামের মায়ের মুখ দেখি, তারপর অন্য মায়ের মুখ দেখি। আমি ষষ্ঠী বা সপ্তমীর দিন গিয়ে নিজের মায়ের মুখ দেখব।” তিনি আরও জানান, পুজোর চারদিনই তিনি সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে গ্রামের বাড়িতে যাবেন এবং বিকেল ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে ফিরবেন।
‘পূর্বপুরুষের পুজো, ভালো লাগে’
অনুব্রত এই পুজোর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, “এটা পূর্বপুরুষের পুজো। ছোটবেলা থেকে দেখছি। গ্রামের মানুষ খুব ভালো, তাদের নিষ্পাপ মন। সবাইকে নিয়েই তারা চলে। আমাদের গ্রামের পরিবেশও খুব সুন্দর।” গ্রামবাসীরাও তাঁর আগমনের অপেক্ষায় রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সুজিত বাগদী ও তপন বাগদী জানান, এই পুজোয় আশপাশের সব পাড়ার লোকজন আসে। অনুব্রত মণ্ডলের প্রত্যাবর্তনে গ্রামজুড়ে সাজো সাজো রব এবং তাঁকে দেখতে সবাই উদগ্রীব।
জেল মুক্তির পর থেকে ফের তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সান্নিধ্যে এসে অনুব্রত বীরভূমে নিজের রাজনৈতিক জমি শক্ত করেছেন। এবার তাঁর সঙ্গে মেয়ে সুকন্যা মণ্ডলও পুজোর চারদিনই এই আয়োজনে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। বীরভূমবাসীকে পুজোর শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুব্রত বলেন, “সব ধর্ম সমান। সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে পুজোয় সামিল হন।”