মহালয়ার আগেই মমতার পুজো উদ্বোধন, শ্রীভূমিতে গিয়ে ফের ‘বাঙালি অস্মিতা’ ইস্যুতে সরব মুখ্যমন্ত্রী

আর মাত্র একদিন পরেই মহালয়া। তার ঠিক আগেই কলকাতার তিন বিখ্যাত পুজো মণ্ডপ— হাতিবাগান সর্বজনীন, টালা প্রত্যয় এবং শ্রীভূমিতে গিয়ে পুজো উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই তিন পুজোয় ঢাকে কাঠি দেওয়ার পাশাপাশি শ্রীভূমির মণ্ডপে ফের একবার ভিনরাজ্যে বাঙালি হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে সরব হলেন তিনি।
‘বাংলায় কথা বললেই অত্যাচার করতে হবে?’
এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাঙালি অস্মিতা এবং বাংলা ভাষার পক্ষ নিয়ে জোরালো সওয়াল করেন। তাঁর কথায়, “বাংলায় কথা বললেই অত্যাচার করতে হবে? সবারই নিজের মাতৃভাষা আছে, সব ভাষাকে সম্মান করুন। আমাদের এখানেও বাইরের পরিযায়ী শ্রমিকরা কাজ করেন। প্রত্যেকের নিজস্ব মতামত আছে। সবাই ঐক্যবদ্ধ না থাকলে দেশ ভাগ হয়ে যাবে।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি এটুকু নিশ্চয় চাই, আমি যেমন আমার মাতৃভাষাকে সম্মান করব, অন্যরাও তাঁদের মাতৃভাষাকে সম্মান করুন, ভালোবাসুন, কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু বাংলা ভাষায় কথা বললে তার উপর অত্যাচার করতে হবে, এই বিষয়ে আমি একমত নই।” তিনি আরও বলেন, রাজ্যের ২২ লক্ষ মানুষ দেশের বাইরে কাজ করেন। আবার অন্য রাজ্য থেকে দেড় কোটি মানুষ বাংলায় কাজ করেন। তারা প্রত্যেকেই দক্ষ ও প্রতিভাবান।
গান্ধীজি, নেতাজি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আম্বেদকর, নজরুল, লাল-বাল-পাল, রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ-সহ দেশপ্রেমিক ও মনীষীদের উদাহরণ দিয়ে মমতা বলেন, “আমাদের দেশ এটাই শিখিয়েছে যে, আমাদের একসঙ্গে বাঁচতে হবে। যেদিন আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব না, দেশটা টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। আমরা সেটা চাই না।”
নস্ট্যালজিয়া থেকে পুজোর গান
এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, সময় স্বল্পতার কারণে মহালয়ার আগেই তিনি পুজো উদ্বোধন করছেন। অতীতে মহালয়ার দিন বা তার পর থেকে তিনি প্রতিমা উদ্বোধন করে থাকেন। অনেকবার তাঁকে দেবীর চক্ষুদানও করতে দেখা গেছে। শ্রীভূমির পুজোয় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পুজোর গান নিয়েও স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, ২০১০-১১ সাল থেকে তিনি বিভিন্ন পুজো ক্লাবের জন্য থিম সং তৈরি করে দিয়েছেন। এবারও প্রায় ১৭টি গান প্রকাশিত হবে, যার মধ্যে নচিকেতা চক্রবর্তী এবং রাঘব চট্টোপাধ্যায়ের গানও থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।