হাইকোর্টের রায়কে উপেক্ষা! ঝাড়খণ্ডে আজও থমকে রেল পরিষেবা, পুরুলিয়ায় বিক্ষোভকারীদের কী অবস্থা?

উচ্চ আদালতের রায়কে অগ্রাহ্য করে আদিবাসী কুড়মি সমাজের ডাকা ‘রেল টেকা ও ডহর ছেঁকা’ কর্মসূচি শনিবার পুরুলিয়ায় তেমন প্রভাব ফেলেনি। কলকাতা হাইকোর্ট আগেই এই আন্দোলনকে বেআইনি এবং অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
শনিবার সকাল থেকে পুরুলিয়া জেলার কুস্তাউর, ঝালদা, কোটশিলা এবং পুরুলিয়া রেল স্টেশনগুলোতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। সড়কপথেও যান চলাচল মসৃণ ছিল। বিভিন্ন স্টেশনে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ এবং আরপিএফ মোতায়েন করা হয়েছিল। পুরুলিয়া জেলার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “কোথাও কোনো অবরোধ নেই। সর্বত্র জনজীবন স্বাভাবিক রয়েছে।”
অন্যদিকে, কুড়মি সমাজের মুখ্যউপদেষ্টা অজিত প্রসাদ মাহাতোকে আটক করার দাবি উঠেছে। তাঁর ছেলে বিশ্বজিৎ মাহাতো অভিযোগ করেন, শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশ কোটশিলা এলাকা থেকে তার বাবা-সহ প্রায় ১৫ জন কর্মীকে আটক করেছে। যদিও পুলিশ এই আটকের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
পুরুলিয়ার সীমানা লাগোয়া ঝাড়খণ্ডে অবশ্য কুড়মি সমাজের ডাকে রেললাইন এখনও অবরুদ্ধ। তবে, পুরুলিয়ায় এর কোনো প্রভাব পড়েনি। বান্দোয়ান থেকে পুরুলিয়া পর্যন্ত রাজ্য সড়কে বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও, সড়ক অবরোধ তেমন দেখা যায়নি। বান্দোয়ান-ঝাড়খণ্ড সীমানাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশি নাকা চেকিং চলছে।
হাইকোর্টের রায়ের পর পুলিশ মাইকিং করে এবং রুট মার্চ করে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আবেদন জানিয়েছিল। এর ফলে জেলার মানুষজন আদালতের নির্দেশ মেনে চলেছে। যদিও কোটশিলা এবং আড়শা থানা এলাকায় কিছু বিক্ষিপ্ত বাকবিতণ্ডা হয় পুলিশের সঙ্গে কুড়মি সমাজের সমর্থকদের। সব মিলিয়ে, কঠোর পুলিশি তৎপরতার কারণে পুরুলিয়ায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।