দিনের আলোয় পর্যটকদের ভিড়, সূর্যাস্তের পরেই কিরাডু মন্দিরের রহস্যে ভয়ে কাঁপে গ্রামবাসী! কেন জানেন?

রাজস্থানের মরুরাজ্যে অবস্থিত এক রহস্যময় মন্দির ঘিরে আজও মানুষের মনে ভয় ও কৌতূহল কাজ করে। মন্দিরটির নাম কিরাডু, যা সিহনি গ্রামের এক নির্জন প্রান্তে অবস্থিত। স্থানীয়দের বিশ্বাস, সূর্যাস্তের পর এই মন্দিরে প্রবেশ করলেই মানুষ পাথরে পরিণত হয়। তাই দিনের বেলায় পর্যটকদের আনাগোনা থাকলেও, সূর্যাস্তের পর এর আশপাশেও কেউ যায় না। কিন্তু কেন এমন বিশ্বাস প্রচলিত হলো?

জনশ্রুতি অনুযায়ী, বহু বছর আগে এক সাধু তাঁর শিষ্যদের নিয়ে এই মন্দিরে আসেন। এক শিষ্য গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে, অন্য শিষ্যরা গ্রামের মানুষের কাছে সাহায্য চান। কিন্তু গ্রামের কেউই সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। এরপর সাধু ফিরে এসে যখন এই ঘটনা জানতে পারেন, তখন তিনি গ্রামবাসীদের ওপর প্রচণ্ড রেগে যান। তিনি অভিশাপ দেন যে, সূর্যাস্তের পর গ্রামের সবাই পাথরে পরিণত হবে।

অভিশাপ দেওয়ার পর তিনি জানতে পারেন, একজন গ্রাম্য মহিলা অসুস্থ শিষ্যের সেবা-যত্ন করেছিলেন। সাধু তাকে সূর্যাস্তের আগে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বলেন এবং পিছন ফিরে তাকাতে বারণ করেন। মহিলা সাধুর কথা মতো গ্রাম ছেড়ে চলে যান, কিন্তু কৌতূহলের বশে পিছন ফিরে তাকান এবং সঙ্গে সঙ্গে পাথরে পরিণত হয়ে যান। আজও গ্রামের বাইরে সেই মহিলার একটি পাথরের মূর্তি দেখতে পাওয়া যায়।

এই ভয়ংকর কাহিনি সত্ত্বেও কিরাডু মন্দির তার অসাধারণ শিল্পকলার জন্য পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। মন্দিরের স্থাপত্যে দক্ষিণ ভারতীয় শিল্পের সুস্পষ্ট ছাপ রয়েছে। এর প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী এবং রহস্যময় ইতিহাস মিলে এই স্থানটি এক ভিন্ন আকর্ষণ তৈরি করেছে। তবে স্থানীয়রা আজও বিশ্বাস করেন, সূর্যাস্তের পর এই মন্দিরে প্রবেশ করলে সেই অভিশাপের শিকার হতে হবে। তাই আজও গ্রামের কোনো মানুষ এই মন্দিরের ধারেকাছেও ঘেঁষেন না।