“প্রতিদিনই মেয়েকে ছুটির পর…?”- ছাত্রী ধর্ষণে অভিযুক্ত শিক্ষকের কু-কীর্তি হলো ফাঁস

রামপুরহাটে এক স্কুলছাত্রীর বস্তাবন্দি খণ্ড-বিখণ্ড দেহ উদ্ধারের ঘটনায় দুই দিন পেরোলেও ক্ষোভের আগুন কমেনি। পরিবারের অভিযোগ, নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে ওই ছাত্রীকে। তার দেহ বস্তাবন্দি অবস্থায় পচে গেলেও হাত-পা ছিল না। পরিবারের দাবি, স্কুলের ভৌতবিজ্ঞানের শিক্ষক প্রায় প্রতিদিনই তাদের মেয়েকে ছুটির পর আটকে রাখতেন। ভয়ে মেয়েটি বাড়িতে কিছু বলতে না পারলেও একবার জানিয়েছিল, শিক্ষক তাকে বিরক্ত করেন এবং টিউশনে গেলেও পিছু নেন।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ২০ দিন আগে তাদের মেয়ে নিখোঁজ হয়। এর দুই দিন আগে থেকেই তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে রামপুরহাট থেকে তার বস্তাবন্দি টুকরো দেহ উদ্ধার হয়। এর ঠিক আগের রাতেই পুলিশ ওই শিক্ষকে গ্রেপ্তার করে। তাকে জেরা করেই দেহের খোঁজ পাওয়া যায়। পুরুলিয়ার বাসিন্দা ওই শিক্ষক রামপুরহাটে গত তিন বছর ধরে ভাড়া থাকছিলেন। তার ঘরটি বিভিন্ন প্রজাতির পাখিতে ভরা ছিল। জানা গেছে, তিনি কারো সঙ্গে মিশতেন না এবং বেশিরভাগ সময়ই দরজা বন্ধ করে থাকতেন।
বৃহস্পতিবার সকালে ছাত্রীর আত্মীয়-স্বজনরা স্কুলের প্রধান শিক্ষককে মারধর করেন। তাদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক সবকিছু জেনেও ২০ দিন ধরে চুপ ছিলেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে স্কুলে ঢুকতে দিয়েছিলেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে শুরু হয় পথ অবরোধ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে এলাকায় মোতায়েন করা হয়। এদিকে, ছাত্রীর পরিবার দোষীর কঠোরতম শাস্তির দাবিতে অনড় রয়েছে। জানা গেছে, রাজ্যের মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।