প্রশিক্ষণ দেবে কেন্দ্র, কিন্তু কাজের টাকা নেই, নতুন প্রকল্পের চিঠি ঘিরে ফের রাজনৈতিক তরজা

‘১০০ দিনের কাজ’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য চালু হওয়া ‘উন্নতি’ প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়াল কেন্দ্র। ২০২৫ সালের মার্চে এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, এখন তা ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত চলবে। এই সংক্রান্ত চিঠি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হাতে আসার পর থেকেই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
কেন্দ্রের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল মনরেগা-র (MGNREGA) অদক্ষ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলা এবং তাঁদের জীবিকা আরও স্থিতিশীল করা। এতে বলা হয়েছে, যে সকল জবকার্ড হোল্ডার মনরেগা-র অধীনে কমপক্ষে ৬০ দিন কাজ করেছেন, তারা ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি এবং মহিলা প্রধান পরিবারগুলিকে এই প্রশিক্ষণে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রতিটি পরিবার থেকে দু’জন সদস্যকে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ চলাকালীন শ্রমিকদের স্টাইপেন্ডও দেওয়া হবে, যা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
কেন্দ্রের দ্বিমুখী নীতি, ক্ষুব্ধ রাজ্য
তবে এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। রাজ্যের প্রায় আড়াই কোটি জবকার্ড হোল্ডার দীর্ঘ দিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার তাদের কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দ করছে না, ফলে কাজের সুযোগও নেই। এমন পরিস্থিতিতে শুধু প্রশিক্ষণের ঘোষণা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার কতটা গয়ংগচ্ছভাবে চলছে, তা ফের প্রমাণিত হল। ওরা রাজনৈতিক স্বার্থ ছাড়া আর কিছুই বোঝে না।” তিনি কেন্দ্রের এই দ্বিমুখী নীতি স্পষ্ট হয়েছে বলেও জানান।
কেরলের ‘মডেল’ এবং রাজনৈতিক বার্তা
কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক তৈরি করে তাদের পরিকাঠামো উন্নয়ন বা স্থায়ী সম্পদ তৈরির কাজে যুক্ত করা হবে, যাতে তাদের আয় বাড়ে। এই লক্ষ্যে রাজ্য সরকারকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে কেন্দ্র কেরলের ‘মিকাভু’ প্রকল্পের উদাহরণ টেনেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন কেরলের প্রকল্পকেই একমাত্র মডেল হিসেবে তুলে ধরা হলো, যখন পশ্চিমবঙ্গে ‘উৎকর্ষ বাংলা’-র মতো অন্যান্য রাজ্যেরও সফল দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে। তাদের মতে, এর মধ্যেও রাজনৈতিক বার্তা লুকিয়ে রয়েছে।
সব মিলিয়ে, কেন্দ্রের এই নতুন পদক্ষেপ রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষত, রাজ্যের জবকার্ড হোল্ডারদের দীর্ঘদিনের কাজ না পাওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই প্রকল্প বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।