‘কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে বিহারে শুধুই অনুপ্রবেশকারী থাকবে’, রাহুলকে সরাসরি আক্রমণ শাহের, তুঙ্গে ভোটযুদ্ধ

বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এনডিএ এবং ইন্ডিয়া জোটের মধ্যে লড়াইয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে চলছে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের পালা। এরই মধ্যে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’-কে ‘ঘুসপেটিয়া বাঁচাও যাত্রা’ (অনুপ্রবেশকারী বাঁচাও যাত্রা) বলে কটাক্ষ করে বিতর্কের নতুন মাত্রা যোগ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

মূল সংবাদ: বৃহস্পতিবার বিহারের রোহতাসে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-র কর্মীদের এক সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে অমিত শাহ রাহুল গান্ধীর ‘ভোট চুরির’ অভিযোগের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কংগ্রেস উন্নয়নের বিষয়গুলিকে উপেক্ষা করে শুধুমাত্র ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের’ রক্ষা করার জন্যই কাজ করছে।

অমিত শাহ বলেন, “রাহুল গান্ধী একটি যাত্রা করছেন। তার যাত্রার বিষয় ভোট চুরি। কিন্তু ভালো শিক্ষা, রোজগার, বিদ্যুৎ, রাস্তা… এসব বিষয় ছিল না। যাত্রার বিষয় ছিল বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানো।”

বিস্ফোরক অভিযোগ: অমিত শাহ আরও প্রশ্ন তোলেন, “অনুপ্রবেশকারীদের কি ভোট দেওয়ার বা বিনামূল্যে রেশন পাওয়ার অধিকার থাকা উচিত? তাদের কি চাকরি, বাড়ি, বা চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া উচিত? আমাদের যুবকদের পরিবর্তে এই রাহুল বাবা এবং তার দল ভোটব্যাংকের জন্য অনুপ্রবেশকারীদের চাকরি দিচ্ছে।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে শাহ সরাসরি কংগ্রেসকে সংখ্যালঘু তোষণ এবং অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ এনে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন।

বিজেপি কর্মীদের প্রতি শাহের বার্তা: বিহারে ভোটের আগে প্রতিটি মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য অমিত শাহ বিজেপি কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমাদের দায়িত্ব প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে বলা যে, যদি ভুল করেও কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে, তবে বিহারের প্রতিটি জেলায় কেবল অনুপ্রবেশকারী থাকবে।”

রাজনৈতিক গুরুত্ব: অক্টোবর বা নভেম্বরে বিহার বিধানসভার ২৪৩টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে অমিত শাহের এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই মন্তব্যের মাধ্যমে বিজেপি একদিকে যেমন ভোটারদের মধ্যে ‘অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুটিকে সামনে আনতে চাইছে, অন্যদিকে তেমনই তারা কংগ্রেসকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর তোষণকারী দল হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। এই ইস্যু বিহারের আসন্ন নির্বাচনে একটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Editor001
  • Editor001