‘ভারতের মতো সংবিধান নেই, তাই জ্বলছে নেপাল-বাংলাদেশ,’-সংবিধানের প্রশংসায় সুপ্রিম কোর্ট

এক ঐতিহাসিক রায়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট দেশটির সংবিধানের স্থিতিশীলতা এবং গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। বিধানসভায় পাশ হওয়া বিলের ওপর রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালের স্বাক্ষরের সময়সীমা নির্ধারণের ক্ষমতা আদালতের আছে কি না, এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই এবং বিচারপতি বিক্রম নাথ মন্তব্য করেন, “ভারতের সংবিধান নিয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মতো সুসংহত সংবিধান নেই বলেই প্রতিবেশী দেশগুলোর অবস্থা দেখুন! নেপাল আর বাংলাদেশ!”
এই মন্তব্যের সূত্র ধরে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি বলেন, “যখন ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন, তখন জনগণ তাকে উচিত শিক্ষা দিয়েছিল। তিনি শুধু হারেননি, নিজের আসন থেকেও পরাজিত হয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সরকার ব্যর্থ হওয়ায় সেই জনগণই আবার ইন্দিরাকে ফিরিয়ে এনেছিলেন। এটাই ভারতের সংবিধানের শক্তি।”
প্রতিবেশীদের অশান্তি: কতটা নিরাপদ ভারত?
শীর্ষ আদালতের এই মন্তব্য এক গুরুত্বপূর্ণ সত্যকে তুলে ধরে— ভারতের লিখিত ও সুসংহত সংবিধানের কারণে ক্ষমতার বিভাজন অত্যন্ত স্পষ্ট। এর রক্ষাকর্তা হলো সুপ্রিম কোর্ট। তাই ভারত সরকার-বিরোধী আন্দোলন বা সেনা শাসনের মতো পরিস্থিতির সম্ভাবনা খুবই কম। কিন্তু যখন প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো জ্বলছে, তখন প্রশ্ন জাগে, ভারত কতটা নিরাপদ?
- বাংলাদেশ: এক বছর আগে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে বাংলাদেশ উত্তাল হয়েছিল। এর ফলে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল এবং শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার ঘটনা নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কেও টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল।
- নেপাল: ‘অখণ্ড ভারত’-এর মানচিত্র নিয়ে বিরোধ থাকলেও নেপালের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক শান্তিপূর্ণই ছিল। তবে, নেপালের রাজনীতিতে ভারত-বিরোধী একটি চোরাস্রোত সবসময়ই বিদ্যমান। বিশ্লেষকরা মনে করেন, নেপালের মসনদে যেই বসুক না কেন, তা ভারতের জন্য খুব একটা লাভজনক নয়।
- অন্যান্য প্রতিবেশী: পাকিস্তান অর্থনৈতিকভাবে ধুঁকছে এবং সন্ত্রাস ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে তাদের বিবাদ লেগেই আছে। অন্যদিকে, তালিবান শাসনাধীন আফগানিস্তানও অর্থনৈতিকভাবে বিধ্বস্ত। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ভুটান এবং ভারত ছাড়া বাকি সব দেশ— আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান, এবং শ্রীলঙ্কা— হয় অশান্তি নয়তো অর্থনৈতিক দুরবস্থার শিকার।
- চীনের ভূমিকা: বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ভারত-বিরোধিতা এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে চীন সার্কভুক্ত দেশগুলোকে ঋণের ফাঁদে জড়িয়েছে।
জটিল বিশ্ব কূটনৈতিক পরিস্থিতি
একদিকে আমেরিকার শুল্কনীতি, অন্যদিকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর অস্থিরতা— এই দুইয়ের মাঝে ভারত এক জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্ব এখন আমেরিকা বনাম ইউরেশীয় দেশগুলোর মধ্যে এক দ্বিমেরু অর্থনৈতিক শক্তির দিকে এগোচ্ছে। এই অবস্থায়, ভারত কীভাবে তার কৌশলগত অবস্থান ধরে রেখে এই সংকট মোকাবিলা করবে, সেটাই এখন কূটনীতিক মহলের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।