‘ভাইপোকে জেলে কবে ঢোকাচ্ছেন শুভেন্দুবাবু?’ মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি অভিষেকের

দুর্গাপুজোর আনন্দ মুহূর্তে বিষাদে পরিণত হয়েছে। কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন মণ্ডপের বিভীষিকাময় দুর্ঘটনায় ১৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক দোষারোপ। প্রশাসনের ভূমিকা এবং পুজো উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে যেখানে চারিদিকে প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে উঠেছে শাসক-বিরোধী তরজা। ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপোর নাম, আর তাঁকে হাতিয়ার করেই সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল ও অভিষেকের নিশানায় শুভেন্দু: চোরবাগানের এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক পোস্ট করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে লেখা হয়, ‘চোরবাগান পুজো প্যান্ডেলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে কে জড়িত বলুন তো! শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এক বিধায়ক এই পুজো কমিটির চেয়ারম্যান। পুজো কমিটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক দেবদীপ অধিকারী। এত মানুষের মৃত্যুর দায় কার?’
এই প্রসঙ্গেই শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি আক্রমণ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি একটি ছবি দিয়ে লেখেন— ‘চোরবাগান সর্বজনীন পুজো কমিটিতে শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপোর যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। অপরাধী ভাইপোকে জেলে কবে ঢোকাচ্ছেন শুভেন্দুবাবু?’ অতীতে অভিষেককে মমতার ‘ভাইপো’ বলে আক্রমণ করার বহু নজির রয়েছে শুভেন্দুর, আর এবার সেই একই অস্ত্র উল্টো দিকে প্রয়োগ করলেন অভিষেক। তিনি আরও কটাক্ষ করে লেখেন, ‘১৮ জনের মৃত্যুর দাগ কিন্তু ডবল ইঞ্জিন ওয়াশিং মেশিনেও উঠবে না। আর ভাইপোর সঙ্গে বিজয় ওঝা আর তমোঘ্ন ঘোষকেও ভুলবেন না। রাজধর্ম পালন করুন।’
বিজেপির প্রতিক্রিয়া: এই বিস্ফোরক অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘এ ধরনের কিছু আমার জানা নেই। শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো, সে নাবালক বলেই আমি জানতাম। সাবালক হয়েছে কি না জানি না। আর সে তো থাকে কাঁথিতে! সে এখানে কোথা থেকে এল আমার জানা নেই। আর এটা নিয়ে বিশ্বাস করুন… আমি মানসিক ভাবে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত। আমি কোনো রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দিতে পারছি না।’
কীভাবে ঘটেছিল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা? রাজনৈতিক জলঘোলার মাঝেই সামনে এসেছে দুর্ঘটনার আসল চিত্র। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বৃষ্টির মধ্যে যখন একদল মানুষ প্যান্ডেল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন, ঠিক সেই সময়ই উলটো দিক থেকে আরও অনেকে ভেতরে ঢোকার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করেন। এর ফলে তীব্র ঠেলাঠেলি ও পদপিষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। একে অপরের গায়ে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েন এবং দমবন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, এমন একটি সঙ্কটের মুহূর্তে ঘটনাস্থলে সময়মতো পুলিশ, দমকল বা অ্যাম্বুল্যান্স— কাউকেই পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ মানুষ। উৎসবের মরসুমে এই বড়ো বিপর্যয় এবং তার রাজনৈতিক তরজা ঘিরে এখন রাজ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।