‘যে সবচেয়ে বেশি বোকা বানাতে পারে, সেই সেরা নেতা’! মোদী-শাহকে নিশানা করলেন নীতিন গডকরি?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত নন। বরং, রাজনৈতিক মহলে এমন ধারণা প্রচলিত যে মোদী-অমিত শাহ জুটির সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকরির সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। বিজেপির অন্দরে এই শীতল সম্পর্কের খবর অনেক সময়ই শোনা যায়, কিন্তু এবার তা যেন প্রকাশ্যেই চলে এল। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে গডকরির দেওয়া একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
সোমবার একটি সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে নীতিন গডকরি বলেন, “যিনি সবচেয়ে বেশি মানুষকে বোকা বানাতে পারেন, তিনিই শ্রেষ্ঠ নেতা হিসেবে বিবেচিত হন।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, গডকরি পরোক্ষভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদীকেই আক্রমণ করেছেন।
গডকরি তাঁর বক্তব্যে জীবনের শর্টকাট পথ নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, “সবকিছুরই শর্টকাট আছে, মানুষ চাইলেই দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। রাস্তা পার হওয়ার সময় ট্রাফিক আইন ভাঙাটাও এক ধরনের শর্টকাট। কিন্তু শর্টকাট আসলে আপনাকে ছোট করে দেয়। দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য সততা এবং সত্যের পথেই হাঁটতে হবে।” তিনি আরও বলেন, তাঁর পেশা অর্থাৎ রাজনীতিতে মন খুলে সত্যি কথা বলা একপ্রকার ‘নিষিদ্ধ’।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গডকরির এই মন্তব্য মোদী-শাহ জুটিকে বিঁধতে চেয়েছেন তিনি। এই প্রথম নয়, এর আগেও তিনি সরকারের সমালোচনা করে মন্তব্য করেছেন। গত মাসেও তিনি বলেছিলেন, সমাজ সচেতন নাগরিকদের সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত, যাতে সরকার সঠিক পথে থাকতে বাধ্য হয়।
সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রত্যাশিত ফল না হওয়ার পেছনে সংঘ এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দূরত্বকে দায়ী করা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে গডকরির এই ধরনের মন্তব্য বিজেপির অভ্যন্তরে বিভেদ আরও বাড়াতে পারে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, সংঘ নীতিন গডকরি, রাজনাথ সিং এবং যোগী আদিত্যনাথের মতো নেতাদের ওপর বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে।
গডকরির এই মন্তব্য বিরোধী দলগুলোর কাছেও এক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। কংগ্রেস নেতাদের মতে, গডকরির এই মন্তব্য অত্যন্ত সুচিন্তিত এবং এটি মোদী সরকারকে ঘরে ও বাইরে উভয় দিকেই চাপে ফেলবে। কারণ, এমনিতেই ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার চাপে রয়েছে।