বিশেষ: চোখে দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হয় রোগী, অমরত্বের রহস্য জানে যে দ্বীপ, জেনেনিন ঠিকানা?

গ্রিসের ছোট একটি দ্বীপ, ইকারিয়া। ২৫৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপের মানুষের জীবনযাত্রা এতটাই অদ্ভুত যে, মনে হয় যেন তারা ‘অমরত্বের রহস্য’ জেনে ফেলেছেন। কারণ, এখানকার মানুষের গড় আয়ু ১০০ বছর! শুধু তাই নয়, এখানে শয্যাশায়ী ক্যান্সারের রোগীও বিনা চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে অনেক বছর বেঁচে থাকতে পারেন।

অবিশ্বাস্য জীবন, অবিশ্বাস্য সুস্থতা

ইকারিয়ার মানুষেরা ১০০ বছর বয়সেও লাঠি হাতে হাঁটেন না। তারা নিজেরাই পাহাড়ের সিঁড়ি বেয়ে গির্জায় যান। ৭০ বছর ধরে প্রতিদিন ২০টি সিগারেট খেলেও কোনো বড় রোগ তাদের ছুঁতে পারে না। এমনটাই ঘটেছে এখানকার বাসিন্দা গ্রেগরি সাহাসের সঙ্গে, যিনি শুধু অ্যাপেনডিসাইটিস ছাড়া আর কোনো রোগে ভোগেননি।

এমনই একজন মানুষ ছিলেন স্ট্যামাটিস মোরাইটিস। ১৯৭৬ সালে তার ফুসফুসের ক্যান্সার ধরা পড়ে এবং ডাক্তাররা তাকে মাত্র ৯ মাসের আয়ু দেন। জীবনের শেষ দিনগুলো নিজের জন্মভূমি ইকারিয়ায় কাটানোর জন্য তিনি ফিরে আসেন। কিন্তু আশ্চর্যভাবে, এক মাস পর থেকেই তার সুস্থতা শুরু হয়। শয্যাশায়ী স্ট্যামাটিস একাই হাঁটতে শুরু করেন, নিজের জমিতে চাষ করে অলিভও ফলান এবং আরও ৩০ বছর বেঁচে ছিলেন।

দীর্ঘায়ু হওয়ার রহস্য

গবেষকরা ইকারিয়ার মানুষের দীর্ঘায়ু হওয়ার তিনটি প্রধান কারণ খুঁজে পেয়েছেন:

  • চিন্তামুক্ত জীবন: এখানকার মানুষ ঘড়ির সময় মেনে চলে না। দোকানদাররা নিজেদের ইচ্ছামতো দোকান খোলেন এবং নিমন্ত্রিত অতিথিরাও নিজের সুবিধামতো সময়ে আসেন। এখানে টাকা-পয়সার চাপ নেই, সবাই মিলে একটি পরিবারের মতো থাকে, যার ফলে তাদের জীবন সম্পূর্ণ স্ট্রেসমুক্ত।
  • স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: তারা প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি এবং ফল খান। ফাস্ট ফুড একেবারেই চলে না, আর মাছ-মাংস খুব কম পরিমাণে খাওয়া হয়। তাদের দৈনন্দিন কাজ, যেমন পাহাড়ে হাঁটা, শরীরচর্চার কাজ করে। রাতে ঘুমানোর আগে তারা এক ধরনের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট হার্বাল চা পান করেন, যা শরীরকে সুস্থ রাখে।
  • যৌন জীবন: ইউনিভার্সিটি অব আথেন্স-এর এক গবেষণা অনুযায়ী, ৮০ শতাংশ ইকারিয়ান ৬৫ থেকে ১০০ বছর বয়সেও সম্পূর্ণ সুস্থ এবং স্বাভাবিক যৌন জীবন উপভোগ করেন।

এই গবেষণার ওপর ভিত্তি করে লেখক ড্যান বুয়েটনার ‘দ্য ব্লু জোনস সলিউশন’ নামে একটি বইও লিখেছেন, যেখানে ইকারিয়ার মানুষের দীর্ঘায়ু হওয়ার রহস্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এই দ্বীপের জলবায়ু, খাদ্যাভ্যাস এবং স্ট্রেসমুক্ত জীবনযাপন— এই তিনটি কারণই তাদের এই দীর্ঘায়ু এবং সুস্থতার মূল চাবিকাঠি বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন।