স্বামীর ভালোবাসার উপহারে আয়করের নোটিস স্ত্রীকে, অবশেষে কোন পথে হলো সমাধান?

মুম্বাইয়ের এক দম্পতি ৬.৭৫ কোটি টাকা দিয়ে একটি সম্পত্তি কিনেছিলেন, যার মালিকানা দুজনের নামেই ছিল। কিন্তু পরের বছরই আয়কর দপ্তর থেকে ওই মহিলার কাছে নোটিস আসে। তার স্বামীর জমানো টাকায় ফ্ল্যাটটি কেনা হলেও, নোটিস পেয়ে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। আদালত এই নোটিস খারিজ করে মহিলাকে স্বস্তি দিয়েছে।

জানা গেছে, ২০২১-২০২২ অ্যাসেসমেন্ট ইয়ারে ওই মহিলা তার বার্ষিক আয় পাঁচ লক্ষ টাকার কম বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ২১ জুন তিনি আয়কর দপ্তরের নোটিস পান। নোটিসের জবাবে মহিলা জানান যে, তার স্বামী তাকে ফ্ল্যাটের অর্ধেক মালিকানা উপহার হিসেবে দিয়েছেন এবং সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে তার কোনো আর্থিক অবদান ছিল না। তার স্বামীও আয়কর দপ্তরে এই বিষয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন এবং তার আয়কর রিটার্নেও এই ফ্ল্যাট কেনার বিবরণ ছিল। তা সত্ত্বেও, ট্যাক্স অ্যাসেসিং অফিসার আয়কর আইনের ১৩৩(৬) ধারায় ওই মহিলাকে নোটিস পাঠান। এরপর ৩১ মার্চ ১৪৮ নম্বর ধারায় তাকে আবারও নোটিস পাঠানো হয়, যার পর তিনি বম্বে হাইকোর্টে আপিল করেন।

মামলার শুনানিতে বিচারপতি বি পি কোলাবাওয়ালা এবং বিচারপতি পি পুনিওয়ালা বলেন, “ওই মহিলা তার আয়কর রিটার্নে তার আয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন যে, স্থাবর সম্পত্তিটি কিনতে তার কোনো অবদান ছিল না এবং তার স্বামীই তাকে অর্ধেক মালিকানা উপহার দিয়েছেন।” আদালত প্রশ্ন তোলে যে, এত সুস্পষ্ট তথ্যের পরেও কেন অ্যাসেসিং অফিসার নোটিস পাঠালেন।

বিচারপতিরা সব নথি খতিয়ে দেখার পর মন্তব্য করেন যে, এই ঘটনায় আয়কর আইনের ১৪৮ ধারা অনুযায়ী নোটিস পাঠানোর কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, এই ধরনের নোটিস জারি করা যায় না এবং এটি বাতিল করা হলো। এই রায়ের ফলে, শুধুমাত্র স্বামীর টাকায় কেনা সম্পত্তিতে সহ-মালিক হওয়ার কারণে স্ত্রীকে কর দিতে হবে না, যা অনেক দম্পতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।