আদালতে বিচারককে চাল ছুড়ে মারার অভিযোগ, ঘটনার জেরে ছড়ালো চাঞ্চল্য

দিল্লির একটি আদালতে বিচারকের দিকে চাল ছোড়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার অতিরিক্ত দায়রা বিচারক শেফালি বার্নালা ট্যান্ডনের এজলাসে এই ঘটনা ঘটান চন্দ্র বিভাস নামের এক ব্যক্তি, যিনি পেশায় একজন শল্যচিকিৎসক। এই ঘটনায় আদালতের কার্যক্রমে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং কিছুক্ষণের জন্য বিচারকাজ বন্ধ থাকে।
সূত্র অনুযায়ী, এই ঘটনার পর উপস্থিত আইনজীবীদের মধ্যে ‘ব্ল্যাক ম্যাজিক’-এর আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে। আইনজীবীরা বিচারককে মেঝে থেকে চাল পরিষ্কার করানোর অনুরোধ জানান, কারণ তারা ওই স্থানে যেতে ইতস্তত বোধ করছিলেন। বিচারক বলেন, “উপস্থিত আইনজীবীরা অনুরোধ করেছেন, মেঝেতে ছড়ানো চাল যেন পরিষ্কার করা হয়, কারণ তারা অভিযুক্তের এই কাজকে কালো জাদু হিসেবে সন্দেহ করছেন।”
বিচারক প্রথমে অভিযুক্তকে নিজেই চাল কুড়িয়ে নিতে নির্দেশ দেন এবং একইসঙ্গে সাফাই কর্মীকেও ডাকেন। প্রায় ১০ মিনিট পর সাফাই কর্মী এসে মেঝে পরিষ্কার করেন এবং আদালতের কাজ পুনরায় শুরু হয়।
দুপুর ২টায় যখন শুনানি আবার শুরু হয়, তখন বিচারক বলেন, “আদালত এমন একটি স্থান যেখানে ন্যায়বিচার দেওয়া হয়। এর মর্যাদা বজায় রাখা সকলের জন্য অত্যন্ত জরুরি।” তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তের এই ধরনের কাজ কেবল বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেনি, বরং বিচারের মূল ভিত্তিকে আঘাত করেছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বি.এন.এস) ২৬৭ ধারা অনুযায়ী, বিচারক যখন বিচারকার্যে ব্যস্ত থাকেন, তখন ইচ্ছাকৃতভাবে তার কাজে বাধা দেওয়া বা তাকে অপমান করা একটি গুরুতর অপরাধ।
বিচারক এই ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, “এটা খুবই বিস্ময়কর যে অভিযুক্ত চন্দ্র বিভাস একজন চিকিৎসক, শল্যচিকিৎসক এবং একজন শিক্ষিত মানুষ হয়েও এমন অযৌক্তিক আচরণ করেছেন।”
ঘটনার পর অভিযুক্ত নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চান। তার আইনজীবীও জানান যে তার মক্কেল ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না। আদালত ওই চিকিৎসককে ২০০০ টাকা জরিমানা করে এবং আদালতের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলে থাকার নির্দেশ দেয়।