দেশভাগের জন্য জিন্না-মাউন্টব্যাটন-কংগ্রেস দায়ী, এবার পড়ানো হবে স্কুলের পাঠ্যবইয়ে

ভারত সরকার ১৪ আগস্টকে ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ১৯৪৭ সালের ভারত-পাকিস্তান বিভাজনের ভয়াবহতা এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে এর গভীর প্রভাব সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে অবহিত করা। এরই অংশ হিসেবে, এনসিইআরটি ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য দেশভাগের উপর একটি বিশেষ পাঠ্যক্রম তৈরি করেছে।

এনসিইআরটি-র এই নতুন মডিউলে বলা হয়েছে, ভারত ভাগের জন্য কোনো একক ব্যক্তি দায়ী ছিলেন না। এই ঘটনার পেছনে তিনজন ব্যক্তি বা দল দায়ী ছিলেন: মহম্মদ আলি জিন্না, যিনি দেশভাগের দাবি তুলেছিলেন; কংগ্রেস, যারা এই বিভাজন মেনে নিয়েছিলেন; এবং লর্ড মাউন্টব্যাটেন, যিনি এই প্রক্রিয়াটি কার্যকর করেছিলেন।

বিভাজনের নেপথ্যে:
মডিউলে আরও বলা হয়েছে, ১৯৪০ সালে লাহোরে মুসলিম লিগের একটি সভায় জিন্না দাবি করেন যে হিন্দু ও মুসলিমরা দুটি ভিন্ন সম্প্রদায়। অন্যদিকে, ব্রিটিশ সরকার ভারতকে স্বাধীন দেখতে চাইলেও তারা বিভাজন চায়নি। ব্রিটিশদের একটি পরিকল্পনা ছিল, যেখানে ভারতকে ডোমিনিয়ন মর্যাদা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু কংগ্রেস সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।

নেতাদের ভাবনা ও সিদ্ধান্ত:
এনসিইআরটি-র মডিউলে দেশভাগের বিষয়ে তৎকালীন বড় নেতাদের ভিন্ন ভিন্ন মতামতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল প্রথমে দেশভাগের বিপক্ষে থাকলেও পরে তিনি বলেন, “দেশ এখন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, উভয় সম্প্রদায় আর শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে থাকতে পারে না। গৃহযুদ্ধের চেয়ে দেশভাগ ভালো।”

ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন বলেন, “আমি ভারত ভাগ করিনি। ভারতীয় নেতারাই এর অনুমোদন দিয়েছিলেন। আমার কাজ ছিল কেবল শান্তিপূর্ণভাবে তা বাস্তবায়ন করা।”

মহাত্মা গান্ধী অবশ্য দেশভাগের বিরুদ্ধে ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “কংগ্রেস যদি দেশভাগ মেনে নেয়, তাহলে তা আমার পরামর্শের বিরুদ্ধে হবে।” কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই জটিল ছিল যে জওহরলাল নেহেরু ও সর্দার প্যাটেল গৃহযুদ্ধের ভয়ে দেশভাগ মেনে নিতে বাধ্য হন, এবং পরবর্তীতে মহাত্মা গান্ধীও এই বিষয়ে আর আপত্তি করেননি। ১৪ জুন, ১৯৪৭ সালের কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সভায় তিনি অন্যান্য নেতাদের দেশভাগের প্রস্তাবে সম্মত হতে রাজি করান।