চাকরিহারা শিক্ষক সুবলের দেহ ‘লুকিয়ে নিয়ে যাওয়ার’ অভিযোগ, জেনেনিন কী বলছে পুলিশ?

চাকরি হারানো ‘যোগ্য’ শিক্ষক সুবল সোরেনের মৃত্যুর পর শুক্রবার কলকাতার আর এন টেগোর হাসপাতালে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তার সহকর্মীরা অভিযোগ করেন যে, পুলিশ মৃত সুবলের দেহ পরিবারকে না জানিয়েই গোপনে সরিয়ে নিয়ে গেছে। তবে পুলিশ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানায়, আইন মেনে এবং পরিবারের উপস্থিতিতেই দেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করে জানানো হয়, কিছু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে যে পুলিশ মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেয়নি। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, সুবলের পরিবারের সদস্যরা পুরো সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন এবং সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাদের হাতেই দেহ তুলে দেওয়া হয়েছে। যারা এই ধরনের গুজব ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও পুলিশ হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা সুবল সোরেন, যিনি ডেবরার বৌলাসিনি হাইস্কুলের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে চাকরি হারিয়ে মানসিক চাপে ভুগছিলেন। তার পরিবারের দাবি, গত ১১ আগস্ট তিনি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সকালে তার মৃত্যুর খবর আসে।
সুবলের মৃত্যুর খবর পেয়েই মুকুন্দপুরের আর এন টেগোর হাসপাতালের ৪ নম্বর গেটের সামনে জড়ো হন তার সহকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, তারা যখন অপেক্ষা করছিলেন, তখন হঠাৎ একটি শববাহী গাড়ি তাদের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। পরে আরেকজন শিক্ষক তাদের জানান যে, সুবলের দেহ ওই গাড়িতে তোলা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, পুলিশ কোনো কিছু না জানিয়েই দেহ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এর প্রতিবাদে তারা গাড়িটির সামনে শুয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।
সুবল সোরেন চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন। তার মৃত্যুতে শিক্ষক মহলে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনাটি চাকরিহারা শিক্ষকদের আন্দোলনকে আরও বেশি সংবেদনশীল করে তুলেছে।