“গোটা গ্রাম জুড়ে অভাব- অনটন, বিয়ে ক্যানসেল হয়েছে”-জেনেনিন এখন কেমন আছে পহেলগাঁও?

চার মাস আগে পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলার পর কাশ্মীরের পর্যটন শিল্পে যেন এক গভীর নীরবতা নেমে এসেছে। একসময়ের প্রাণবন্ত শ্রীনগরের লালচক, ডাল লেক থেকে শুরু করে পহেলগাঁও পর্যন্ত সর্বত্রই পর্যটকের আনাগোনা প্রায় নেই বললেই চলে। পর্যটন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে।

আয় কমেছে, বেড়েছে অনিশ্চয়তা

স্থানীয় ঘোড়াওয়ালা থেকে শুরু করে হাউসবোট মালিক, সবার গলাতেই এখন হতাশার সুর। একজন ট্যাক্সি চালক বলেন, ‘আগে রোজ ১,৫০০ টাকা বা তারও বেশি আয় হতো। এখন কোনোদিন ২০০-৩০০ টাকা আসে, আবার কোনোদিন কিছুই আসে না।’ তিনি জানান, পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর থেকে পর্যটকেরা ভয়ে আসছেন না। তার মতো অনেকেই এখন দিনের বেশিরভাগ সময় খালি বসে থাকছেন। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে পহেলগাঁওয়ের ঘোড়াওয়ালার স্ট্যান্ডেও, যেখানে ঘোড়ার খাবারের খরচ জোগাতেই হিমশিম খাচ্ছেন মালিকেরা।

সরকারের আশ্বাসের পরও শূন্যতা

হামলার পরপরই ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং পরে ‘অপারেশন মহাদেব’ পরিচালনা করে সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করে দেয়। প্রশাসনও পর্যটকদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ভারতে ২ কোটিরও বেশি দেশি পর্যটক এসেছিল, অথচ এই বছর জুনের মধ্যে সেই সংখ্যা ১ কোটির কাছাকাছি। পিক সিজন চলে যাওয়ার পরও এই পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক নয়।

স্থানীয়দের মুখে আশার কথা, কিন্তু বাস্তবে হতাশা

স্থানীয়রা বলছেন, সরকার পর্যটকদের কাশ্মীর ভ্রমণে উৎসাহিত করতে ৭০০০ টাকা করে দিচ্ছে, তবে এই খবরের কোনো সরকারি সত্যতা নেই। তবুও স্থানীয়দের মুখে মুখে এই কথা ছড়িয়েছে। তারা আশা করছেন, আগামী ১৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।

পহেলগাঁওয়ের এক শাল বিক্রেতা মুর্তজা বলেন, ‘আগে দিনে ১০-১৫ হাজার টাকা বিক্রি হতো। আমাদের মতো পাইকারি বিক্রেতারা কোনোমতে টিকে আছি, কিন্তু যেসব হোটেল লিজ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিল, তারা এখন লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনে হতাশায় ভুগছে।’

সব মিলিয়ে, কাশ্মীর উপত্যকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখনও অটুট থাকলেও, সন্ত্রাসী হামলার ভয় এবং তার ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট স্থানীয়দের জীবনযাত্রায় গভীর ছাপ ফেলেছে। কবে আবার এই উপত্যকা পর্যটকদের কোলাহলে ভরে উঠবে, তার উত্তর কারও কাছেই নেই।