৭৯তম স্বাধীনতা দিবসে সদগুরু, ‘এখন শুধু উদারীকরণের নয়, প্রকৃত মুক্তির সময়’

ভারতের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সদগুরু এক গভীর বার্তা দিয়েছেন, যেখানে তিনি শুধু স্বাধীনতা উদযাপন নয়, বরং প্রকৃত পরিবর্তনের উপর জোর দিয়েছেন। তার মতে, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং অভ্যন্তরীণ সমস্যা থাকা সত্ত্বেও, এগুলোকে উন্নতির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
প্রকৃত স্বাধীনতার আহ্বান:
সদগুরু বলেছেন, এখন শুধু উদারীকরণের সময় নয়, বরং প্রকৃত মুক্তির সময়। তার মতে, প্রয়োজন সাহসী, আত্মবিশ্বাসী এবং অভিযাত্রী মনোভাবের। তিনি শিক্ষা, শিল্প এবং প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রগুলোকে সরকারি নিয়ন্ত্রণের শিকল থেকে মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং মানব মেধার শক্তি বিকশিত হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি আমরা চাই শক্তিশালী বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো আমাদের গুরুত্ব দিক, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
আমলাতান্ত্রিক পরিবর্তন ও উদ্ভাবন:
সদগুরু মনে করেন, দেশের উন্নয়নে মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়ায় কিছু অস্থিরতা বা পুরনো নিয়মের পরিবর্তন আসতে পারে। তাই জরাজীর্ণ আমলাতান্ত্রিক কাঠামো এবং পুরানো কর ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করা আবশ্যক। তিনি বলেন, “নিস্তেজ লাল ফিতের ফাঁসে যেন নবীন উদ্ভাবন শ্বাসরুদ্ধ না হয়। একমাত্র এভাবেই আমরা একটি স্বাধীন ও প্রাণবন্ত জাতি গড়তে পারি।”
প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক:
তথ্যপ্রযুক্তিকে ভারতের অন্যতম মূল শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে সদগুরু বলেন, ভারত দ্রুত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ক্ষেত্রে উন্নতি করছে। এই অগ্রগতি বজায় রাখতে উন্নত অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎ গ্রিডে বিনিয়োগ করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, রাজ্যগুলির বিদ্যুৎ বরাদ্দের উপর নির্ভর না করে ছোট পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (SMRs) ব্যবহার করে ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা পূরণ করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে, তিনি ভৌগোলিকভাবে সদৃশ দেশগুলির সাথে সম্পর্ক গভীর করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে আধিপত্যবাদী রাষ্ট্রগুলির চাপ প্রতিহত করা যায়। তার মতে, “আমাদের আরও দেয়াল নয়, আরও জানালা প্রয়োজন।”
সদগুরু তার বক্তব্যে ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিকে এক “অস্থির কিশোরের” সঙ্গে তুলনা করেছেন, যে ঝুঁকি নিতে এবং নতুন কিছু তৈরি করতে প্রস্তুত।