প্রতি কেজি ১ লাখ টাকা দামের ‘গোল্ড টি’ বাজারে আনল ডুয়ার্সের চা বাগান

ডুয়ার্সের মাঝেরডাবড়ী চা বাগান এবার চা-প্রেমীদের জন্য নিয়ে এসেছে এক অভিনব চমক। প্রতি কেজি ১ লাখ টাকা দামের বিরল ‘গোল্ড টি’ এবার বাজারে এনেছে তারা। এই চায়ের নাম শুধু প্রতীকী নয়, এতে সত্যিই ব্যবহার করা হয়েছে খাওয়ার যোগ্য সোনা বা ‘এডিবল গোল্ড’। দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক ট্রেড ফেয়ারে এই বিশেষ চা প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে জায়গা করে নিতে চলেছে এই উদ্ভাবনী পণ্য।
উপাদান ও উপকারিতা:
গত সোমবার মাঝেরডাবড়ী টি লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গোল্ড টি’ লঞ্চ করা হয়। চা বাগানের ম্যানেজার চিন্ময় ধর জানিয়েছেন, দেশে এই প্রথমবারের মতো চায়ের সঙ্গে সোনার গুঁড়ো ব্যবহার করা হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে সুগন্ধি গোলাপের পাপড়ি, যা চায়ের স্বাদ এবং গন্ধকে অতুলনীয় করে তুলেছে। শুধু স্বাদের জন্যই নয়, এই চায়ের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যগত উপকারিতাও। নিয়মিত এই চা পান করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং হজমশক্তি উন্নত হবে বলে দাবি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজার লক্ষ্য:
মাঝেরডাবড়ী চা বাগান কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিশেষ ধরনের চা প্রস্তুত করতে পারে। বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এই ‘গোল্ড টি’ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। প্রথম ধাপেই এই চা দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক ট্রেড ফেয়ারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ‘লাক্সারি টি’-র চাহিদা ব্যাপক, তাই দুবাইয়ে প্রদর্শনী আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নজর কাড়বে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
বর্তমানে মাঝেরডাবড়ী চা বাগান ৪২ ধরনের ফ্লেভারের চা উৎপাদন করছে। যখন ডুয়ার্সের অনেক চা বাগান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তখন এই ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ চা শিল্পে নতুন প্রাণ সঞ্চার করছে। গোল্ড টি-র মতো একটি আন্তর্জাতিক মানের পণ্য বাজারে আনার মাধ্যমে শুধু ব্র্যান্ড ভ্যালুই বাড়বে না, বিদেশি মুদ্রাও আয় করা যাবে। চিন্ময় ধর বলেন, তাদের লক্ষ্য ভারতীয় চা-কে বিশ্বমঞ্চে প্রিমিয়াম পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, এবং ‘গোল্ড টি’ সেই প্রচেষ্টারই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দিল্লির ডাবড়ী আউটলেটে ইতিমধ্যে এই চা বিক্রি শুরু হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, এটি বিদেশি বাজারেও সমান জনপ্রিয়তা পাবে। এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে বাংলার চা শিল্পের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় যোগ করতে চলেছে।