স্বাধীনতা দিবসের প্রভাত ফেরিতে ভীমরুলের হামলা, পশ্চিম মেদিনীপুরে আহত ৩০

পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং ব্লকে স্বাধীনতা দিবসের সকালটি হঠাৎ করেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো। বলপাই পশুপতি সুরেন্দ্র বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলের প্রভাত ফেরির মিছিলে ভীমরুলের আক্রমণে অন্তত ৩০ জন ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা গুরুতর।

ঘটনার বিবরণ:
শুক্রবার সকালে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্কুলের পক্ষ থেকে ড্রাম সহযোগে প্রভাত ফেরির আয়োজন করা হয়েছিল। জাতীয় পতাকা হাতে, দেশাত্মবোধক গান ও স্লোগানের সঙ্গে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও স্থানীয়রা আনন্দময় পদযাত্রা করছিলেন। মিছিলটি যখন গ্রামের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল, তখন অসাবধানতাবশত রাস্তার ধারের একটি গাছে থাকা ভীমরুলের চাকে আঘাত লাগে। মুহূর্তের মধ্যেই শত শত ভীমরুল ছুটে এসে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের ওপর আক্রমণ শুরু করে।

আহতদের অবস্থা:
ভীমরুলের হুলের মারণ আক্রমণে অন্তত ৩০ জন আহত হন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর আহত ৭ জনকে দ্রুত মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বাকিদের সবং গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আক্রান্তদের শরীরে একাধিক হুল ফোটার কারণে তীব্র ব্যথা, মাথা ঘোরা ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ভীমরুলের হুলের বিষ সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য মারাত্মক হতে পারে বলে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন।

আতঙ্ক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ:
এই ঘটনার পর গ্রামজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অভিভাবকেরা দ্রুত স্কুলে ছুটে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে ভীমরুলের চাক সরিয়ে ফেলার দাবি জানিয়েছেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে ‘অভাবনীয়’ বলে বর্ণনা করেছে এবং আহতদের চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব নিয়েছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকরা এই সময়ে ভীমরুলের আক্রমণাত্মক আচরণের বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

আনন্দময় প্রভাত ফেরি পরিণত হলো দুঃসহ স্মৃতিতে। দেশপ্রেমের আবেগের পাশাপাশি এই অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি এলাকার মানুষের মনে গভীর ছাপ ফেলে গেল। সকলের প্রার্থনা, আহতরা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।