‘অসম্ভব’, SIR মামলায় চমকে উঠলেন খোদ বিচারপতিই! প্রকাশ্যে অবাক করা তথ্য, হৈ চৈ সুপ্রিম কোর্টেও

দেশের ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া, যা স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) নামে পরিচিত, এখন সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। বিহারে ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই শীর্ষ আদালত জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে।
একই ঠিকানায় ২৪০ ভোটার এবং ‘মৃত’দের উপস্থিতি
শুনানির সময় বিচারপতি সূর্য কান্ত বিহারে এক বাড়িতে ২৪০ জন ভোটারের নাম থাকার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং বলেন, “একটা বাড়িতে এত লোক থাকতেই পারে না। অসম্ভব।” অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের তালিকায় ‘মৃত’ বলে ঘোষিত কিছু ব্যক্তি সশরীরে সুপ্রিম কোর্টের সামনে হাজির হওয়ায় এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের বড় নির্দেশ
শীর্ষ আদালত জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে:
বিহারের এসআইআর-এ যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে এবং কেন নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তার কারণও উল্লেখ করতে হবে।
নাম বাদ গেলে পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদনের সময় আধার কার্ড-কে প্রামাণ্য নথি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এই বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করার জন্যও কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্বেগ
এই শুনানিতে পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। রাজ্যের আইনজীবী গোপালশঙ্কর নারায়ণ সারা দেশে এসআইআর-এর ওপর স্থগিতাদেশের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই কমিশন পশ্চিমবঙ্গে এই প্রক্রিয়া শুরুর কথা ঘোষণা করেছে। আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি হাইকোর্টের সামনে তিন মহিলার আত্মহত্যার চেষ্টার প্রসঙ্গ তুলে রাজ্যের পরিস্থিতি যে খারাপের দিকে যাচ্ছে, তা তুলে ধরেন।
আবেদনকারীদের অভিযোগ
আবেদনকারীদের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি এবং প্রশান্ত ভূষণও কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁরা বলেন, আসন্ন নির্বাচনের আগে তাড়াহুড়ো করে এই শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া কেন করা হচ্ছে? কমিশনের তালিকায় ‘নন-রেকমেন্ডেড’ বলে বাতিল হওয়া ১০-১২ শতাংশ ভোটারের ডিজিটাল রেকর্ড কেন ওয়েবসাইটে দেওয়া হচ্ছে না, সেই বিষয়েও তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন। আজ এই সব অভিযোগের জবাব দেবে নির্বাচন কমিশন।