স্বাধীনতা দিবসে বিভিন্ন জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা, সতর্কতা জারি আবহাওয়া দফতরের

ভারতের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবসে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ, ১৫ আগস্ট, ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) এবং অন্যান্য সংস্থাগুলির পূর্বাভাস অনুযায়ী, কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কলকাতার আবহাওয়া
আজ কলকাতায় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩২° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৬° সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকবে। বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা থাকবে ৭৫-৯৫%, যা আবহাওয়াকে অস্বস্তিকর ও আর্দ্র করে তুলবে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে যে, সারাদিন মেঘলা আকাশের পাশাপাশি হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে, যার পরিমাণ প্রায় ১.৯ মিমি। দক্ষিণ দিক থেকে ঘণ্টায় ১০-১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইবে, যা মাঝে মাঝে ঝোড়ো হাওয়ায় পরিণত হতে পারে। বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকায় বাইরে থাকার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের পূর্বাভাস
উত্তরবঙ্গ: দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের মতো জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি নিম্নচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমী অক্ষরেখার কারণে এই অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় আলিপুরদুয়ারে ২১০ মিমি এবং কোচবিহারে ১০৫ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই অঞ্চলে ৭-২০ সেমি পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের ফলে জলাবদ্ধতা, ভূমিধস এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

দক্ষিণবঙ্গ: হাওড়া, হুগলি, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়ার মতো জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর এই জেলাগুলির জন্য ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ জারি করেছে, যেখানে বজ্রপাতের সাথে ৩০-৪০ কিমি/ঘণ্টা বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এর ফলে নিম্নাঞ্চলে জল জমা, কাঁচা রাস্তার ক্ষতি এবং ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

উৎসব উদযাপনে প্রভাব ও সতর্কতা
স্বাধীনতা দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আবহাওয়ার কারণে কিছু অসুবিধা হতে পারে। কলকাতায় সকালে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, তীব্রতা কম হওয়ায় বড় কোনো বাধা সৃষ্টি হবে না। তবে, অংশগ্রহণকারীদের ছাতা, রেইনকোট এবং জলরোধী জুতো সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গে ভ্রমণকারীদের ভূমিধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না থাকা এবং নদী ও জলাশয়ের কাছে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা, জলঢাকা, তোর্সা এবং রায়ডাক নদীর জলস্তর বাড়তে পারে, তাই নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে হবে। কৃষকদের ফসল রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। শহরের নিম্নাঞ্চলগুলিতে জল জমে থাকতে পারে, তাই যাতায়াতের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।