“সামুদ্রিক মাছের ৪০% যায় আমেরিকায়”-ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ ট্যারিফ নিয়ে চিন্তায় মৎস্যজীবীরা

আর মাত্র দুই সপ্তাহ পর ভারতীয় সামুদ্রিক পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে চলেছে আমেরিকা। এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ভারতের সামুদ্রিক মৎস্যশিল্প, বিশেষত চিংড়ি রপ্তানি। ভারতের মোট সামুদ্রিক মাছ রপ্তানির ৪০ শতাংশই যায় আমেরিকায় এবং এর মধ্যে সিংহভাগই হলো চিংড়ি। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই পূর্ব মেদিনীপুরের চিংড়ি চাষিদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়া ও এগরা মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় চিংড়ি চাষ হয়। জেলার প্রায় ১৬ হাজার ফিশারিতে এই চাষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ। প্রতি বছর এই জেলা থেকে প্রায় ৪,৫০০ থেকে ৫,০০০ কোটি টাকার চিংড়ি বিদেশে রপ্তানি হয়। মূলত নদী তীরবর্তী নন্দকুমার, নন্দীগ্রাম, কাঁথি, চণ্ডীপুর, রামনগর, খেজুরি-এর মতো এলাকার বহু মানুষের জীবিকা এই চাষের ওপর নির্ভরশীল।

জেলা প্রশাসনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমেরিকার এই শুল্কনীতি কার্যকর হলে জেলায় চিংড়ি চাষ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে। মৎস্য চাষিদের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য দুটি বিকল্প পথের কথা ভাবা হচ্ছে। একটি হলো, আমেরিকা বাদে অন্য দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে রপ্তানির নতুন বাজার তৈরি করা। অন্যটি হলো, দেশীয় বাজারে যে মাছের চাহিদা বেশি, সেই মাছ চাষে মনোনিবেশ করা।

গত কয়েক বছরে চিংড়ি চাষে লাভের সম্ভাবনা দেখে বহু মানুষ এই পেশায় যুক্ত হয়েছেন। কিন্তু আমেরিকার শুল্কনীতির ঘোষণা তাঁদের মাথায় হাত দিয়েছে। চিংড়ি ব্যবসায়ী বিমল দাস জানান, “কয়েক লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে চিংড়ি চাষ করেছিলাম। এখন যদি বিদেশে রপ্তানিতে এত শুল্ক চাপে, তাহলে উৎপাদিত চিংড়ি বিক্রি করে অর্থ পাওয়া কঠিন হবে। আমাদের মতো ক্ষুদ্র চাষিদের কী হবে, তা ভেবেই চিন্তায় পড়েছি।”

রপ্তানিকারকরাও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। দিঘার এক চিংড়ি রপ্তানিকারক শুভজিৎ মণ্ডল বলেন, “এখনও পর্যন্ত রপ্তানিতে কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হলে কী হবে তা বলা কঠিন। আমাদের চিংড়ির ভালো চাহিদা থাকায় আমেরিকার ক্রেতারাও সমান ক্ষতির মুখে পড়বেন। আমরা নিয়মিত কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছি।” যদিও এই শুল্কের ফলে চিংড়ি রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েই গেছে।