ফুলে ওঠা ফুলহরের জলে ভাসছে ভূতনি, ত্রাণ নিয়ে ক্ষোভের মুখে বিধায়ক সাবিত্রী মিত্র

মালদার মানিকচকের ভূতনি চরে ফুলে ওঠা ফুলহর নদীর বাঁধ ভেঙে ব্যাপক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বুধবার সকালে দক্ষিণ চণ্ডীপুর কাটাবাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ায় প্রবল তোড়ে জল ঢুকছে লোকালয়ে। গোটা ভূতনি চর এখন জলের নিচে, হাসপাতাল, থানা এবং বিভিন্ন স্কুল প্লাবিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ত্রাণ নিয়ে দুর্গতদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, যার জেরে মানিকচকের তৃণমূল বিধায়ক সাবিত্রী মিত্রকে বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিধায়ক সাবিত্রী মিত্রের একটি ফোনালাপ ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি এক গ্রামবাসীকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করছেন। ওই গ্রামবাসী তাকে ফোন করে প্রশ্ন করেছিলেন, কেন তিনি ঠাণ্ডা ঘরে বসে মিথ্যা ভাষণ দিচ্ছেন এবং কোটি কোটি টাকা লুটের অভিযোগ তুলেছেন। পরে সাংবাদিকরা তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি তার কুভাষা ব্যবহারের কথা স্বীকার করে নেন।

ফোনালাপের প্রসঙ্গে সাবিত্রী মিত্র বলেন, “আমি ওই দুটি ফোন নম্বর পুলিশ সুপারকে দিয়ে অভিযোগ করেছি। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, একটি নম্বর কেরলে এবং আরেকটি তামিলনাডুতে রয়েছে। কিছু ছেলে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে আমাকে গালিগালাজ করছিল, তাই আমি বাজে কথা বলেছি।” তিনি আরও বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের নাম করে বাঁধ ভাঙার অভিযোগ করেননি, বরং বলেছেন যে রাজনৈতিক দলগুলো ‘ঘোলা জলে মাছ ধরতে’ নেমেছে।

বিধায়ক সাবিত্রী মিত্র তার বক্তব্যে দাবি করেন যে, মানিকচকের বন্যা ও ভাঙন নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দিচ্ছে না, রাজ্য সরকার কোনোমতে বাঁধ টিকিয়ে রেখেছে।” তিনি আরও জানান, “গতবারের বন্যার পর ৫০ কোটি টাকার রাস্তাঘাট করে দিয়েছিলাম, এবার সব ভেসে গিয়েছে। আমার যন্ত্রণা হচ্ছে।”

এদিকে, বিরোধী দলগুলো এই বন্যাকে ‘ম্যানমেড’ বলে দাবি করছে এবং এর জন্য রাজ্য সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছে। স্থানীয় মানুষরাও এই দাবি সমর্থন করে বলেন যে, কেউ বা কারা বাঁধ কেটে ভূতনিকে বন্যার মুখে ঠেলে দিয়েছে। সাবিত্রী মিত্র অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “ভূতনির মানুষ আমাকে কখনও খারাপ কথা বলতে পারে না।” তিনি আরও বলেন যে, মানুষ এখন সমালোচনা না করে বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াক।