পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ, পুরুলিয়ার ঘটনায় সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট

পুরুলিয়ায় পুলিশের মারে এক বিচারাধীন ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগের ঘটনায় এবার সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখার পর বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ এই নির্দেশ দেন। আদালত জানিয়েছে যে, ওই ব্যক্তির মৃত্যু পুলিশের মারের কারণেই হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ১৬ জুলাই, যখন মোবাইল চুরির অভিযোগে আরশা থানার পুলিশ বিস্টু কুমার নামে এক যুবককে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও, এরপর থেকেই সে অসুস্থ বোধ করতে থাকে। ১৯ জুলাই তার অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
প্রথম ময়নাতদন্তের পর পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার সাংবাদিক সম্মেলন করে দাবি করেন যে, বিস্টু কুমারের শরীরে অভ্যন্তরীণ অঙ্গের সমস্যার কারণে মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু মৃতের পরিবার ও গ্রামবাসীরা এই রিপোর্ট মানতে রাজি ছিলেন না। তারা অভিযোগ করেন যে পুলিশের মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এরপর মৃতের ভাই সমন কুমার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন।
আদালত প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্টে সন্দেহ প্রকাশ করে এবং ৪ আগস্ট কল্যাণীর এইমস হাসপাতালে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয়। বৃহস্পতিবার আদালতে জমা দেওয়া দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্ট হয় যে, ‘পুলিশের মারের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে।’ এর পরেই আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কোর্টের তত্ত্বাবধানে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেয়।
এই ঘটনায় জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি গৌতম রায় পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “একজন জ্বলজ্যান্ত যুবককে পুলিশ মার্ডার করে কীভাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলল স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে?” অন্যদিকে, জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সহ-সভাপতি সুশেন মাঝি বলেন, তারা হাইকোর্টের নির্দেশ এখনো দেখেননি এবং রিপোর্ট দেখার পর মন্তব্য করবেন।