পূর্ব বর্ধমানের এক গ্রাম, যেখানে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নৌকা, একবুক জল পেরিয়ে স্কুলে আসেন প্রধান শিক্ষক

পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম ২ ব্লকের সীতাহাটি পঞ্চায়েতের বিধানপল্লী গ্রামের অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে, সেখানে যাতায়াতের কোনো পাকা রাস্তা নেই। গ্রামের বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা নৌকা। এই গ্রামের উদ্ধারণপুর বিধানপল্লী অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুকুমার দাসকে প্রতিদিন একবুক জল পেরিয়ে স্কুলে আসতে হয়।
প্রধান সড়ক থেকে বিধানপল্লী গ্রামে পৌঁছাতে প্রায় ২ কিলোমিটার জল ও কাদার রাস্তা পার হতে হয়। এরপর একটি বাঁশের সেতু পেরিয়ে গ্রামে ঢুকতে হয়, যা বর্তমানে জলের নিচে ডুবে আছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধান শিক্ষক সুকুমার দাস বাধ্য হয়ে জল ভেঙে স্কুলে আসেন। তার একটি আলাদা পোশাকও স্কুলে রাখা আছে, যা তিনি ভিজে যাওয়ার পর পরিবর্তন করেন। তিনি বলেন, “জল বাড়লে এভাবেই যাতায়াত করতে হয়, এছাড়া কোনো উপায় নেই।”
গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এতটাই খারাপ যে, প্রশাসনের কোনো আধিকারিকই গ্রামে আসেননি। শুধু ভোটের সময় নেতারা ভোট চাইতে আসেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলে যান। গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের নিজস্ব নৌকা রয়েছে এবং যাদের নেই, তাদের অন্যের নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এমনকি, পড়ুয়াদেরও নৌকা নিয়ে স্কুলে যেতে হয়।
গ্রামের বেহাল অবস্থার কারণে অনেকেই গ্রাম ছেড়ে চলে গেছেন। আগে যেখানে ৩০০-র বেশি পরিবার ছিল, এখন সেখানে মাত্র ৫০টি পরিবার বসবাস করে। গ্রামবাসী সুকুমার সরকার বলেন, “আমাদের গ্রামটা যেন ভারতবর্ষের বাইরে। কোনো এসডিও, বিডিও, আইপিএস, ডিএম আজ পর্যন্ত কেউ আসেননি।” তিনি আরও বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে গ্রামের মেয়েদের বিয়ে দেওয়াও কঠিন।
গ্রামে কারও শারীরিক সমস্যা হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতেও অনেক সময় লাগে। প্রধান শিক্ষক, পড়ুয়া এবং গ্রামবাসীরা সকলেই একটি পাকা সেতু এবং রাস্তা তৈরির জন্য প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে আছেন। কেতুগ্রামের বিধায়ক শেখ শাহনাওয়াজ মৌখিকভাবে জানিয়েছেন যে, গ্রামটি তাদের নজরে রয়েছে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে। কিন্তু কবে এই সমস্যার সমাধান হবে, সেই অপেক্ষাতেই দিন গুনছে বিধানপল্লীর বাসিন্দারা।