যাদবপুরে শিক্ষামন্ত্রীর গাড়িতে হামলা, স্পেন থেকে ফিরতেই গ্রেফতার গবেষক, হতবাক পরিবার

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়িতে হামলার ঘটনায় স্পেন থেকে দেশে ফেরার পরই দিল্লি বিমানবন্দরে গ্রেফতার হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন ছাত্র ও গবেষক হিন্দোল মজুমদার। এই ঘটনায় তার বাবা-মা, যারা দুজনেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক, গভীর বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
হিন্দোলের বাবা চন্দন মজুমদার, যিনি কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন, জানিয়েছেন যে পুলিশ তাকে জানিয়েছে কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং ফেসবুক পোস্টের ভিত্তিতে হিন্দোলকে এই ঘটনায় যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “ঘটনার সময় হিন্দোল স্পেনে ছিল। সে মেরি কুরি ফেলোশিপ পেয়ে গ্রানাডা ইউনিভার্সিটিতে বায়ো মেডিসিন ও ক্লিনিক্যাল সায়েন্সেসের ওপর গবেষণা করছিল। এমন একজন মেধাবী বাঙালি গবেষকের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটবে, তা আমরা ভাবতেও পারিনি।”
হিন্দোলের মা শাশ্বতী মজুমদার, যিনি ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপিকা ছিলেন, তার অনুশোচনা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সারাজীবন এই দেশের জন্য কাজ করেছি। ছেলেকে তার শিক্ষকরাই গবেষণার জন্য বিদেশে পাঠিয়েছিলেন, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বাড়ে। অথচ নিজেদের শহর থেকে এমন আঘাত আসবে, তা আমরা ভাবিনি।” তিনি আরও বলেন যে, তারা ওই চ্যাটগুলো দেখেননি, তাই বুঝতে পারছেন না একটি চ্যাটের ভিত্তিতে কতটা অপরাধ হতে পারে।
পুলিশ সূত্রে খবর, হিন্দোল মজুমদার স্পেন থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যাদবপুরের বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন। কোন জায়গায় বিক্ষোভ হবে এবং কীভাবে হামলা চালানো হবে, তার ব্লু-প্রিন্টও তিনিই তৈরি করে দিয়েছিলেন বলে পুলিশের দাবি।
তবে, শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “আমি আপনাদের মিডিয়ার মাধ্যমেই এই খবর জেনেছি। পুলিশের সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। এটা নিয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়া সমীচীন হবে না। পুলিশের থেকে বিবৃতি চাওয়া উচিত।” তিনি আরও জানান, এই গ্রেফতারের প্রতি তার কোনো সমর্থন বা বিরোধিতা নেই। তিনি পুলিশ থেকে খোঁজ নিয়ে দেখবেন।