চুঁচুড়ায় ট্রাফিক পুলিশকে হেনস্থা, কলার ধরে মারধরের অভিযোগ, পাঁচজন গ্রেফতার

চুঁচুড়া ইমামবাড়া জেলা হাসপাতালের সামনে এক কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকে হেনস্থা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। হেলমেট না পরায় বাইক আটকানোকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটে, যার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যদিও টিভি৯ বাংলা এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন এক ট্রাফিক পুলিশ হেলমেট না পরায় দুই বাইক আরোহীকে আটকান। আরোহীরা দাবি করেন, এর প্রতিবাদ করায় পুলিশ তাঁদের চড় মারেন। এর পরই তাঁদের পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা ঘটনাস্থলে এসে ওই পুলিশকর্মীকে কলার ধরে টানাটানি ও হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় ব্যাপক ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য চুঁচুড়া পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সমীর সরকার ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশকর্মীকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।

এই ঘটনায় কর্তব্যরত পুলিশের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগে প্রথমে পাঁচজনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে চুঁচুড়া থানায় নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয় এবং পরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তোলা হলে একজন মহিলা জামিন পেলেও বাকি চারজনকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত সবাই চুঁচুড়ার স্থানীয় বাসিন্দা।

ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় বিধায়ক অসিত মজুমদার বলেন, “এটা অন্যায়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়।” অন্যদিকে, অভিযুক্ত এক যুবক তার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, “এখানে তো অনেকে হেলমেট ছাড়া যাচ্ছে, তাদের ধরল না। আমাদের ধরল কারণ আমরা যুবক। উনি আমায় মারলেন, তাই আমরাও মেরেছি। পুলিশ হোক বা নেতা হোক, গায়ে হাত তুললে মারব।” এই ঘটনায় পুলিশের প্রতি অসন্তোষ এবং আইনের প্রতি অবমাননার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।