কিস্তওয়ারে মেঘভাঙা বৃষ্টি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩, নিখোঁজ সিআইএসএফ জওয়ান

জম্মু ও কাশ্মীরের কিস্তওয়ার জেলায় মেঘভাঙা বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। হিমালয়ের অন্যতম জনপ্রিয় তীর্থস্থান মাচাইল মাতা যাত্রার সময়কালে এই বিপর্যয় ঘটায় পুণ্যার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

কিস্তওয়ার থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে ৯,৫০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত চাসোটি এলাকায় দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। মা চণ্ডীর মন্দিরে যাওয়ার জন্য পুণ্যার্থীরা এখানে জড়ো হয়েছিলেন। যাত্রার রুটে স্থাপিত একটি অস্থায়ী লঙ্গরখানা সম্পূর্ণভাবে হড়পা বানে ভেসে গেছে।

উদ্ধার ও ত্রাণ কার্য:

বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পরই দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দুটি দল উধমপুর থেকে কিস্তওয়ারে রওনা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী সম্মিলিতভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। সিআইএসএফের এক জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ শেষ করতে প্রায় ২০ দিন সময় লাগতে পারে। হড়পা বানে বহু ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো হিসাবের বাইরে।

কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া:

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এই ঘটনার উপর নিবিড় নজর রাখছেন এবং কিস্তওয়ার প্রশাসনের সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগ রাখছেন। স্থানীয় বিধায়ক সুনীলকুমার শর্মা প্রথম কেন্দ্রকে বিষয়টি জানান। জেলার ডেপুটি কমিশনার পঙ্কজ শর্মা জানান, চাসোটি এলাকাটি মাচাইল মাতা যাত্রার শুরুর পয়েন্ট। জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। তিনি জরুরিভিত্তিতে ত্রাণ ও উদ্ধারকার্য চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

আবহাওয়ার সতর্কতা:

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরের কিস্তওয়ার, কুপওয়ারা, বারামুল্লা, বন্দিপুরা, শ্রীনগর, গান্ডেরবাল, বদগাঁও সহ পুঞ্চ, রাজৌরি, রিয়াসি, উধমপুর, জম্মু এবং ডোডায় আগামী কয়েক ঘণ্টা ধরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এর ফলে আরও হড়পা বান ও ভূমিধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে।